সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানি পান করে ১২টি গরু-মহিষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এসময় কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাতে আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া ওয়ার্ডে গবাদি পশুগুলো মারা যায়।
প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বর্জ্য মিশে পানি বিষাক্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিএপি’র বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা থাকলেও তা না করে সরাসরি খালে ফেলায় খালের পানি বিষাক্ত হয়ে যায়। যা পান করে হরহামেশাই গবাদি পশু মারা যাচ্ছে। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে ১৪টি এবং একই বছর এই কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত খালের পানি পান করে আরও ১২টি মহিষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
এদিকে ডিএপি সার কারখানার পক্ষ থেকে মৃত গরু-মহিষগুলোর মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে বর্জ্য মিশে পানি বিষাক্ত হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।
সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান জানান, সিইউএফএল তিন মাস ধরে বন্ধ। কারখানায় এখন উৎপাদনে নেই। আমাদের বিষাক্ত পানি বের হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
ডিএপি সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, আমাদের কারখানা থেকে যে পানি বের হয় তাতে পশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই। তারপরও মৃত পশুগুলো পোস্টমর্টেম করে দেখে তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, মো. এরফানের ১টি মহিষ (যার পেটে বাচ্চা ছিল) মো. ইব্রাহিমের ১টি, মো. কাশেমের ৩টি, জহুর লাল সিংহ এর ১টি, মো. ছৈয়্যদ জামালের ১টি গরু, মো. একরামের ২টি মহিষ, মো. জাকের এর ১টি মহিষ, মো. কামাল হোসেনের ১টি মহিষ, মো. পারভেজ এর ১টি পশু মারা গেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। প্রথমে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দিবে বলে আমাদের জানান। বিষয়টি আমরা মন্ত্রী মহোদয়কেও জানিয়েছি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।