জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে না। সুতরাং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ায় স্থানীয় শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের প্রীতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব তৈরি করছে। শিবিরের তৈরি এই নেতৃত্বই একদিন জাতিকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ উপহার দেবে। ছাত্রশিবির দেশের ছাত্র ও যুবসমাজকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছে। আগামী দিনে দেশ ও জাতির পরিবর্তনের নেতৃত্বও শিবিরকেই দিতে হবে। শিবিরের নেতৃত্বেই দেশে কাঙ্ক্ষিত ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে।
যারা সংস্কারের বিরোধিতা করে দ্রুত নির্বাচনের তাড়া দিচ্ছেন তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা সংস্কার না করেই নির্বাচন দাবি করছেন তারা মূলত শেখ হাসিনার দুঃশাসনকেই ফিরিয়ে আনতে চান। যারা জামায়াত-শিবিরের দিকে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। এই দেশ কারও বাপের কিংবা কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের। দেশের মানুষ যাকে চাইবে তারাই দেশ শাসন করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ভেতরে-বাইরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। পলাতক নেত্রীর কথায় অনেকেই উঁকিঝুঁকি মারছেন। যতই উঁকিঝুঁকি মারেন লাভ নাই। যত উঁকিঝুঁকি মারবেন বিপদ ততই বাড়বে। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা কেবলমাত্র ফাঁসির আসামি হিসেবেই দেশে ফিরবেন। যারা জামায়াতের নিরপরাধ শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচনা শেষে একটি র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে ছাত্রশিবিরের দুই হাজারেরও অধিক সাবেক নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে এসময় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশনের (ইফসু) সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।