মিরসরাই প্রতিনিধি::
‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’ এই স্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন হলো উত্তর চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০০২ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) বিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ও সন্মাননা ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করে নেন।
উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ইমাম হোসেন ইমনের সভাপতিত্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রফেসর রাজু বড়ুয়া ও সাহিদা ইয়াছমিন ভুঁইয়ার যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন শিক্ষক বাবু সমিরণ বড়ুয়া।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রেয়াজুল ইসলাম ইমন ভুঁইয়া।
এসময় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা রবিউল হোসেন নিজামী, সাবেক শিক্ষক মমিনুল হক বিএসসি, সাবেক শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, বর্তমান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান।
ঐতিহ্যবাহী আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০২ ব্যাচের পুনর্মিলনী উৎসবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিলেন আনন্দে, যেন খুঁজে পেয়েছিলেন নিজেদের শৈশব। সবাইকে আবার একসঙ্গে পেয়ে যেন কর্মজীবনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের। পুরোনো বন্ধুদের নতুন করে পেয়ে ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন তারা। একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে বন্ধুত্বের নতুন বন্ধন তৈরি করেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাহিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমরা শৈশব-কৈশোরের খোঁজে এখানে ছুটে এসেছি, স্বপ্নের দরবারে, স্মৃতির আঙিনায়।বহুদিন পর স্কুলবন্ধুদের একত্রিত করতে পারলাম। নানা ব্যস্ততায় অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল না। ঈদকে উপলক্ষ করে বন্ধুদের একত্রিত করার উদ্যোগ নিই, আর সেই ভাবনা বাস্তবায়ন করতেই এই মিলনমেলা। সত্যিই দুর্দান্ত একটা দিন কাটিয়েছি।’
প্রাক্তন ছাত্র রেয়াজুল ইসলাম ইমন ভুঁইয়া তার স্মৃতিচারণে বলেন, ‘এই মিলন মেলা ঈদের আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা আজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সবাইকে শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক। এক সময় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করলেও, জীবিকার তাগিদে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। কেউ রাজধানী ঢাকা, কেউ চট্টগ্রাম, কেউবা আরও দূরদূরান্তের জেলায়। জীবনের এমনই নিয়ম। এখন হয়তো কালেভদ্রে সেসব বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ফলে আমরা চেয়েছিলাম এবারের ঈদের ছুটিতে সবাই একত্রিত হতে। সবাইকে দীর্ঘ ২৩ বছর পর পেয়ে অসাধারণ এক সময় উপভোগ করছি।’
উদযাপন কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন বলেন, ‘কৈশোরের বন্ধুত্ব কখনও হারায় না, হারিয়ে যাবার নয়। জীবন জীবিকার তাগিদে আমরা হয়তো ব্যস্ত থাকি, কিন্তু ছেলেবেলা কখনও মুছে যায় না, অমলিন হয়ে থাকে স্মৃতিপটে। এ কারণে জীবন চলার পথে যতো মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব হোক না কেন, স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের মতো তারা কখনও স্মৃতিময় বন্ধুত্বের বন্ধন আর হয় না। জীবনের প্রকৃত বন্ধুই হলো স্কুল জীবনের খেলার সাথীরাই। তারাই প্রকৃত বন্ধু। এ কারণেই আমরা সবাই মিলে চেয়েছিলাম এমন একটা আয়োজন করতে যেখানে সবাই একসঙ্গে দীর্ঘ ২৩ টি বছর পর একত্রিত হতে পারবো। এমন সফল একটি আয়োজন আমাদেরকে ছোটবেলা, স্কুলজীবনকে ফিরিয়ে দিয়েছে।’
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে ২০০২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা, নাচ-গান ও বাদ্য-বাজনার তালে বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরো আয়োজনে আনে ভিন্ন মাত্রা।