দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ‘দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি অতীত ইতিহাসকে না ভুলে স্মরণ রাখতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ কোনো ষড়যন্ত্র এ দেশে কার্যকর হতে পারবে না। পৃথিবীর ইতিহাসে যারা অতীত ভুলেছে, ইতিহাস ভুলেছে তাদের ওপর ফ্যাসিবাদ পুনরায় ভর করেছে।’
শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজবাড়ী শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত রুকন (জেলা সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে এদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল। ভোটকেন্দ্র বর্জন করেছিল। জনমত সংগঠিত করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তারা চেষ্টা করেছে। যার ধারাবাহিকতায় আগস্টের কোটাবিরোধী আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সেদিন আমাদের সন্তানরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আজ আমরা স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব বলতো খেলা হবে। কিন্তু তিনি আমাদের ছাত্রদের সঙ্গে খেলায় আর পারলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনিও খেলতে খেলতে বিদেশের মাটিতে পালিয়ে গেছেন। তিনি যেখানে আছেন সেখানে হয়তো খেলছেন। তিনি এখন ইঁদুর বেড়াল খেলা খেলছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতার গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ের ফলাফলের কথা ভুলি নাই। রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই। মা-বোনদের আত্মচিৎকার থামে নাই। আমাদের শহীদদের কবরের মাটি শুকায় নাই। আহতদের হাসপাতালে কাতরানো বন্ধ হয়নি। আমরাও ফ্যাসিবাদের ইতিহাস ভুলি নাই। সুতরাং এদেশে আবারও ফ্যাসিবাদ আসবে বলে যারা আশা করেন, তারা স্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় সজাগ ও সচেতন। ফ্যাসিবাদ থেকে জাতি মুক্ত হয়েছে। নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এই যাত্রাই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।’
রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর অঞ্চলের সহকরী সেক্রেটারি মো. দেলোয়ার হুসাইন, ফরিদপুর অঞ্চলের টিম সদস্য শামছুল ইসলাম আল বরাটী ও অব. প্রফেসর আবদুত তাওয়াব বক্তব্য রাখেন।
জানা গেছে, সবশেষ ২০০৯ সালে জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন হয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম পুনরায় জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া ১৯ জন শূরা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যারা জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি নির্বাচিত করবেন। আগামী দুই বছর নবগঠিত কমিটি জেলার দায়িত্ব পালন করবেন।
সম্মেলনে ৫৩৭ জন ভোটারসহ আমন্ত্রিত জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে জেলা জামায়েতে ইসলামীর নব নির্বাচিত আমির অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলামকে শপথ বাক্য পাঠ করান কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।