সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, রোববার (৩ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
জলাবদ্ধতা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দাদের মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সংকট নিরসন করে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে।…কাজেই যদি চট্টগ্রাম শহরের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপ করা যায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি- এই নির্বাচনি ইশতেহার পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।’
চট্টগ্রাম সিটির নতুন মেয়র আরও বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসের কথা বলে, দেশের পর্যটন খাতকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ খাতকে ঠিকমতো ব্যবহার করা যায়নি।’
এর আগে ৩ নভেম্বর(রোববার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়র হিসেবে শপথ নেন ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।
ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ওই মাসেই নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত। সরকার পরিবর্তনের পর এ বছরের ১ অক্টোবর সেই মামলার রায়ে শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন।
আদালতের রায় অনুযায়ী ইসি সচিবালয় ৮ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এরপর আজ শপথ নিলেন তিনি।