এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার: শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে বিশ্বব্যাপী মঙ্গল ধ্বনির সুরে সুরে মা দূর্গা দেবীর এসময়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে। আসুরিক অপশক্তির বিনাশ আর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় মা দূর্গার আরাধনা করে আসছে যুগ যুগ ধরে।
আগামী ৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতনী হিন্দু সাম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। চারিদিকে সাজ সাজ রব, মৃতশিল্পীরা ব্যস্ত রয়েছেন প্রতিমার শেষ রূপ ফুটিয়ে তুলতে। পূজা মন্ডপ বর্ণিল রঙে আলোকসজ্জা আসন সজ্জা প্রায় শেষ।
কক্সবাজারে এবার ৩২১টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৬টি মণ্ডপ।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি রতন দাশ জানান, এবছর কক্সবাজারে ৩২১টি পূজা মণ্ডপের উদযাপিত হবে। ১৫০টি প্রতিমা পূজা ও ১৭১টি ঘট পুজা। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩২টি, কক্সবাজার পৌর এলাকায় ১২টি, রামুতে ৩৬টি, চকরিয়ায় পৌর এলাকাসহ ৮৯টি, পেকুয়ায় ৯টি, কুতুবদিয়ায় ৪৫টি, মহেশখালী পৌর এলাকাসহ ৩৪টি, উখিয়ায় ১টি, উখিয়া কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১টি ও টেকনাফ উপজেলা (পৌর এলাকাসহ) ৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
৮ অক্টোবর অধিবাসের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়ে, ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১০ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১১ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১২ অক্টোবর মহানবমী, ১৩ অক্টোবর, বিজয়া দশমী প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ হবে।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশ জানান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, সকল রাজনৈতিক দল ও ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একই ভাবে প্রত্যোক উপজেলায়ও নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি, সনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, সকল রাজনৈতিক দল ও ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করা হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সিন্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি পূজা মন্ডপে ভক্তিমূলক ও ধর্মীয় গান ছাড়া অপ্রাসাঙ্গিক গান বাজনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রাখা, প্রত্যেক মন্ডপে আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছসেবকটিম দিনে ও রাতে দায়িত্ব পালন করা, আযান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এবং সকল পূজা মন্ডপে সিসিটিভি ক্যামরা স্থাপন, মন্ডপ ও বিসর্জন স্থলে পর্যাপ্ত আলোর (জেনারেটরসহ জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অগ্নিনির্বাপক) ব্যবস্থা রাখা হ’য়ে । যেসব ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে দুর্গাপ‚জা করা হবে সে ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত বিধি বিধান মেনে সকলের সাথে সমন্বয় করে পূজা আয়োজনের ব্যবস্থা করা। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোন দুর্ঘটনার সংবাদ তাৎক্ষনিক সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা মনিটরিং সেলে জানাতে নির্দেশনা প্রদান করেছি।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, মণ্ডপগুলোতে আগের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পূজা মণ্ডপে র্যাব ও পুলিশ ছাড়াও আনসার মোতায়েন করা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কক্সবাজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থস্থান। এখানে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাই এবারও আমরা একটি সুন্দর পূজা উপহার দিতে চাই। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।