বাংলাদেশের নতুন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব কামনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ( ২৬ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন তার সরকারের নেয়া বহুমুখী সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, `আমি এখানে আপনাদের কথা শুনতে এসেছি এবং আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশ কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ শুনতে এসেছি। আমরা আমাদের এই নতুন যাত্রায় আপনাদের অংশীদারত্ব চাই।’
এই অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্টিভেন কোবোস, কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর অতুল কেশপ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এই ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এ সময় ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ শুধু ১৭ কোটি মানুষের বাজার নয়। এটি দ্রুত বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা বাজারের একটি হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনের ৩০০ কোটি মানুষের বাজার ধরার সম্ভাবনার কাছাকাছি রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোনো দেশই সমস্যামুক্ত নয়। বাংলাদেশও সমস্যামুক্ত নয়। তবে আমি একটি বিকাশমান বাংলাদেশকে দেখি যে দেশটি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ সময় তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী।
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, সরবরাহব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইনে) বৈচিত্র্য আনতে তারা বাংলাদেশের ব্যবসার পাশাপাশি মার্কিন ব্যবসার বিকাশে সহায়তা করার জন্য সবকিছু করবে।
তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের কমিটি একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য কাজ করছে যা অর্থনীতির মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করবে এবং ডিসেম্বরের শেষের মধ্যে সংস্কারের সুপারিশ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে তারা মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের যে কোন পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছেন। বাংলাদেশে আইএলও-এর নির্দিষ্ট শ্রমমান অর্জনে তারা গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান ইউনূস।
এ সময় শূন্য কার্বন নির্গমনের বিশ্বের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কার্বন নিরপেক্ষ বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের প্রয়োজন। ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ২২ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৪০ শতাংশ শক্তি উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বিনিয়োগের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও জানান ড.ইউনূস।