বিবিসি বাংলা:: দৈনিক সমকালের শিরোনাম ‘জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করছেন না প্রধানমন্ত্রী’। এ খবরে বলা হচ্ছে, জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি দলটি আগামী নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী আগামী সাতই জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আসন ভাগাভাগির প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন না পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, রংপুর-১ আসনের এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং রংপুর-৩ আসনের এমপি রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
এ সময় বলা হয়, জি এম কাদেরের নেতিবাচক মনোভাবের কারণেই তারা জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাননি।
‘যা দেবে তাই মানতে হবে শরিকদের’ দেশ রূপান্তরের শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার সঙ্গে থেকেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নিজেদের সংগঠন সংহত করতে না পারায় জোটের নেতাদের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জোটবদ্ধ থেকেও আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়াতে না পারার ক্ষোভও তাদের ওপর রয়েছে শেখ হাসিনার। এজন্য তিনি জোটসঙ্গী নেতাদের সর্বশেষ বৈঠকে ভর্ৎসনাও করেছেন।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এ কথা জানিয়ে আরও বলেন, শরিক দলগুলোর নির্ভরতা কমাতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা ও জোটনেতাদের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার প্রবণতায় শেখ হাসিনা অনীহা প্রকাশ করেছেন।
অন্য তিনবারের মতো এবার নৌকা প্রতীক না দিতে কঠোর অবস্থানে তিনি। শেখ হাসিনার নৌকা কম বরাদ্দের অবস্থানে শরিক দলের প্রার্থীরা নিরাশ হলেও মুখবুঝে সইতে হচ্ছে তাদের। কোন উচ্চবাচ্য ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হচ্ছে তাদের।
যুগান্তরের শিরোনাম ‘সেনাবাহিনী ১৩ দিনের জন্য নামতে পারে’। এই খবরে বলা হচ্ছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিন সেনাসদস্যরা মাঠে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেওয়ার পর সেই অনুযায়ী তাদের মোতায়েন করা হবে।
তবে এবারও ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারে’র আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হবে। গত নির্বাচনের মতো এবারও একই পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাঠে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের পর সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২৯শে ডিসেম্বর থেকে ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য মোতায়েনের মোটামুটি আলোচনা হয়েছে।