চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রকৌশলীদের ইন্টারসেকশন ডিজাইন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘কোলাবোরেটিভ ডিজাইন লার্নিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছে ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই)। মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চসিকের কনফারেন্স হলে কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ।
চট্টগ্রাম নগরীতে রোড ক্র্যাশে মৃত্যু ও হতাহত হওয়া প্রতিরোধে চসিক ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’র (বিআইজিআরএস) সাথে কাজ শুরু করেছে। বিআইজিআরএসের অংশীদার হিসাবে, ডব্লিউআরআই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভৌগলিক এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ সড়ক ডিজাইন ও নির্মাণে শহরগুলিকে সহায়তা করে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম শহরে ইন্টারসেকশন ও সড়ক ডিজাইনের বিষয়ে চসিক প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল হুদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ বলেন, সড়কের ত্রুটি, যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা নানা কারণেই রোড ক্র্যাশ হতে পারে। আজকের কর্মশালা আমাদের প্রকৌশলীদের ভবিষ্যতে নিরাপদ সড়ক নির্মাণে সহায়তা করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, সবার জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাঠপর্যায়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে পুলিশ সদস্যরা কাজ করে। তাই ত্রুটিমুক্ত সড়ক ডিজাইন করার বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রকৌশলীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হলে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।
কর্মশালার শুরুতে বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের সার্ভিল্যান্স কো-অর্ডিনেটর কাজী সাইফুন নেওয়াজ চট্টগ্রাম শহরের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর ডব্লিউআরআই-এর সহকারী পরামর্শক স্থপতি আরিনা তাহনীম ইন্টারসেকশনের ভূমিকা বর্ণনা করেন।
কর্মশালায় ডব্লিউআরআই-এর পরামর্শক স্থপতি ফারজানা ইসলাম তমা অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলীদের সামনে সড়ক ডিজাইন প্রক্রিয়া তুলে করেন। তিনি বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিরাপদ ইন্টারসেকশন অত্যন্ত জরুরি। কারণ সেখানে সব ধরনের সড়ক ব্যবহারী একত্রিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে পথচারীরা, সড়কে যারা সংখ্যায় অনেক বেশি এবং সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকে, তারা রাস্তা পারাপারের সময় ক্র্যাশের শিকার হয়। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ত্রুটিমুক্ত ইন্টারসেকশন ডিজাইন করা জরুরি।’
কর্মশালায় ইন্টারসেকশন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে অস্থায়ী ইন্টারসেকশন নির্মাণের পর তা সফল হলেই কেবল একই স্থানে স্থায়ী ইন্টারসেকশন নির্মাণের পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলীরা কর্মশালার আলোচনার ভিত্তিতে একটি ইন্টারসেকশন ডিজাইন করেন।
কর্মশালায় চসিকের পুরকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীবৃন্দ এবং সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহিন-উল ইসলাম চৌধুরী, বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের ইনিশিয়েটিভ কো-অর্ডিনেটর লাবিব তাজওয়ান উৎসব, এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর কাজী হেলাল উদ্দিন, কমিউনিকেশন অফিসার মাহামুদুল হাসান প্রমুখ।