চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বন্দর অডিটোরিয়ামে সিপিজিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের কাছে চ্যানেল হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিপিএএ । এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, বন্দরের পর্ষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১, মহাপরিচালক (প্রশাসন), সিএমপি কমিশনার, কাস্টমস কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বন্দরের বিভাগীয় প্রধানগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এখন থেকে চ্যানেলের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ চ্যানেলে যাতায়াতকারী সমুদ্রগামী জাহাজের পোর্ট ডিউজ, বার্থ হায়ার চার্জ, পাইলটিং, টাগ চার্জ, বার্থিং-আনবার্থিং ও অন্যান্য চার্জ চট্টগ্রাম বন্দর আদায় করবে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আদায় হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। বন্দর সুত্রে জানা যায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার চওড়া ও ১৮ মিটার গভীরতার চ্যানেলটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কাজ শুরু হলে তা ২০২০ সালে শেষ হয়। পরবর্তীকালে প্রস্থ আরও ১০০ মিটার বাড়ানো হয় চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য। একই সঙ্গে গভীরতাও বাড়ানো হয়। আর এতেই গভীর সমুদ্রবন্দরের উপযোগী জাহাজ ভেড়ানোর পর্যায়ে পৌঁছে মাতারবাড়ী। গত ২৫ এপ্রিল ৬৩ হাজার টন কয়লা নিয়ে ২২৯ মিটার দীর্ঘ ও ১২ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের (পানির নিচের গভীরতা) জাহাজ প্রথম ভিড়েছে এই বন্দরে। যদিও এর আগে কয়লা বিদ্যুতের উপকরণ নিয়ে ১১২টি জাহাজ ভিড়েছিল মাতারবাড়ীতে। গত এপ্রিলের পর এ পর্যন্ত আরও সাতটি জাহাজ কয়লা নিয়ে ভিড়েছে। এসব জাহাজ কয়লা বিদ্যুতের জেটিতে ভিড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে এখন। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জেটি নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এরই অংশ হিসেবে পুরো চ্যানেলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নিকট আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর

সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন