চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সামনে রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (৯ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৩-২৪’ -এর নির্বাচিত ফেলোদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
আগামী দিনে বাংলাদেশও চাঁদে মানুষ পাঠাবে এমন কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
এক সময় আমরাও চাঁদে যাব, অ্যারোপ্লেন বানাব। সেই চিন্তা মাথায় রেখে অ্যারোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়েছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। আমাদের সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা অনেকগুলো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অনেকগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। কারণ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসবে, সেজন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।
স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে স্মার্ট, এর জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলব। আমাদের স্মার্ট পপুলেশন, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট এগ্রিকালচার, স্মার্ট জনশক্তি ও স্মার্ট সোসাইটি হবে।
দেশের উন্নয়নে সামগ্রিক অবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,
কেবল অন্যের তত্ত্ব নয়, নিজের মেধা ও চিন্তাকেও কাজে লাগাতে হবে। যেটার প্রমাণও আমরা পেয়েছি গত ১৪ বছরে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শিক্ষা–সব খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। তাই নিজের দেশকে জানতে হবে, অনুভব করতে হবে; তাহলেই উন্নয়ন টেকসই ও গণমুখী হবে।
’৭৫-পরবর্তী সরকার দেশের জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয় দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক শাসকরা ভালো কথা বলে ক্ষমতায় এলেও প্রকৃতপক্ষে তারা দেশের মানুষের কোনো উপকার করতে পারে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গবেষণার ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিভাগের গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকার পিএইচডির জন্য যেসব বরাদ্দ দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেয় বলেও জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ নৌকায় ভোট দেবে এমন ধারণা থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। যে কটা কাজ ছিল গণমুখী–২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে সবই বন্ধ করে দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা কেউ আটকাতে পারবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।