শফিউল আলম, রাউজান: পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাউজানের পশুর হাট জমে উঠেছে। গত বুধবার থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ী বাজার উঠালেও উল্লেখযোগ্য হারে বেচাকেনা শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। প্রতিটি বাজারে দেখা গেছে বেশির ভাগ গরু এক লাখ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের মধ্যে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলেছেন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার বিবেচনায় এই শ্রেণির গরুর চাহিদা দেখে তারা গরু সংগ্রহ করেছে বিক্রির জন্য। দেখা গেছে বেশির ভাগ ক্রেতার ঝোঁক এই শ্রেণির গরুর প্রতি। তবে এখানকার বাজার গুলোতে বড় গরু নেই এমনটা নয়। দেখা গেছে তিন থেকে দেড় লাখ টাকার গরু বেচাকেনা হচ্ছে রাউজানের বিভিন্ন পশু বাজারে। বড় গরু বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ বড় গরু স্থানীয়দের গৃহপালিত ও রাউজানে গড়ে উঠা এগ্রো ফার্মে বড় করা। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে মৌসুমী ব্যবাসায়ীরা অন্তত ২০টি অস্থায়ী হাট বসিয়েছে। ব্যবসায়ীরা পাড়ায় পাড়ায় পশু রাখার অস্থায়ী শেড সৃষ্টি করে পঞ্চাশ, এক’শটি করে বিভিন্ন আকৃতির পশু রেখে প্রতিদিনই বেচাকেনা করছে। এসব অস্থায়ী হাটে কোরবানীতারা ঘুরে ফিরে পছন্দের পশু কিনছেন। অনেক কোরবানীদাতার মতে হাট বাজারের ঘুরাঘুরি করে পশু পছন্দ করা অনেকটা কষ্টকর। এই বিবেচনায় পাড়ার অস্থায়ী হাট থেকে পশু কিনে নিচ্ছেন। এখনে সুযোগ থাকছে কিনে নেয়া পশু কোরবানীর আগের দিন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের জিম্মায় রাখার সুযোগ। আবার কিছুকিছু এলাকায় কোরবানীর পশু বেচাকেনা করতে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থায়ী সপ্তাহিক হাট। এসব হাটে সপ্তাহে নির্ধারিত দুদিন পশু বেচাকেনার সুযোগ রয়েছে। গতকাল বুধবার সপ্তাহিক অস্থায়ী প্রথম কোরবানীর পশু বাজার বসেছে রাউজান পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডে চারাবটতল এলাকায়। প্রথম দিনে এখানে বিক্রির জন্য আনা হয়েছে কয়েক হাজার পশু। বেচাকেনাও হয়েছে মোটামুটি। পৌরসভার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন গত প্রায় সাত বছর থেকে এখানে সপ্তাহের বুধবার ও শনিবার হাট বসে। পার্ব্বত্য জেলাসহ বিভিন্ন স্থানের মানুষ এই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে কোরবানীর পশু। বহু কোরবানীদাতা শহর থেকে এসেও পছন্দের পশু নিয়ে যায়। গতকাল এই হাট থেকে তিনিও একটি গরু এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় নিয়েছেন বলে জানান রাউজানের পশ্চিম রাউজান এলাকার আবু জাফর।রাউজান উপজেলার আমির হাট, ফকির টিলা বাজার, বইজ্যার হাট, জানিপাথর বাজার, ডাবুয়ার মুছা শাহ হাট, চিকদাইর হক বাজার, নোয়াজিশপুর নতুন হাট, ফতেহ নগর বাশডুয়াতল বাজার, গহিরা দলই নগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, সুলতানপুর জানালী হাট, ফকির হাট বাজার, বিনাজুরী কাগতিয়া হাট, রাউজান ইউনিয়নের রমজান আলী হাট, নাতোয়ান বাগিচা, কদলপুর সোমবাইজ্যার হাট, ঈশান ভট্টের হাট, পাহাড়তলী বদু পাড়া পিংক সিটি মাঠ, বাগোয়ান ইউনিয়নের লাম্বুর হাট, গশ্চি নয়া হাট, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরী হাট, উরকিরচর মদুনাঘাট বাজার, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই পিকে সেন হাট, রঘুনন্দন চৌধুরী হাট, পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলি মিয়ার হাট সমুহে কোরবানীর পশুর হাট বসছে । কোরবানীর পশুর হাটে গরু, মহিষ, ছাগল কেনাকাটা চলছে । ছোট সাইজ থেকে মাঝারী সাইজ, বড় সাইজের গরু বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে । রাউজান উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার জপু চক্রবর্তী জানান, রাউজানের বিভিন্ন গ্রামে ৪শত ৫৯ টি পশু খামারে ৪১ হাজার, ৬শত, ১৭টি গরু, মহিষ, ছাগল ভেড়া কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ।
রাউজানে কোরবানির পশুর হাট জমজমাট

সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন