ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ইস্যুতে এবার কঠোর হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। চলতি মাসেই ভেঙে ফেলা হবে ডিএনসিসি কাঁচা মার্কেট, কারওয়ান বাজারসহ সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি মার্কেটের পরিত্যক্ত আটটি ভবন।
এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও বিকল্প ব্যবস্থার দাবি দোকান মালিকদের। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও জনবান্ধব নীতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।
দেয়ালজুড়ে গাছ আর শেকড়ের রাজত্ব, খসেপড়া পলেস্তারাসহ বর্তমান অবস্থা দেখে আপাতদৃষ্টিতে ভবনটি শতবছরের পরিত্যক্ত কোনো রাজপ্রাসাদ মনে হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এটি রাজধানীর অন্যতম অভিজাত এলাকা গুলশান ডিএনসিসি কাঁচাবাজার। যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। কিন্তু কেন?
নামটি তার কাঁচাবাজার হলেও স্থাপনাটি সম্পূর্ণ পাকা। অন্য যে কোনো ভবনের থেকে এর আছে স্বতন্ত্র এক বৈশিষ্ট্য। আর তা হলো এখানে গোপন নেই কোনো কিছুই। নির্মাণে ব্যবহৃত প্রতিটি সামগ্রী এখানে প্রকাশ্য দেখা যাচ্ছে। ইট, সিমেন্টের পাশাপাশি ভেতরকার রডও বেরিয়ে আছে শক্তপোক্ত কংক্রিটের ফাঁক গলে।
কোথাও আবার কংক্রিটের থেকেও শক্তির বিচারে এগিয়ে আছে সবুজ গাছ। শেকড়ের দাপটে কাবু হয়ে গেছে দেয়াল, এমনকি পিলারও। পিলারের এক একটি ফাটল দেখলে মনে হবে, এ যেন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ভবন।
গুলশান ডিএনসিসি কাঁচা মার্কেটের বর্তমান অবস্থা আরও স্পষ্ট করে মাথার ওপরের এ লোহার খাঁচা। খসে পড়া পলেস্তারা থেকে রক্ষা পেতে নিজ উদ্যোগে খাঁচা বসিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
ব্যতিক্রম নয় কারওয়ান বাজারও। পুরো রাজধানীবাসীর নিত্যপণ্যের জোগান দেয়া বাজারটির চারটি ভবন নড়বড়ে অবস্থা। অথচ এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে বেচাকেনা। বয়সে খুব বেশি পুরনো না হওয়া সত্ত্বেও ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার জন্য নির্মাণকালীন অনিয়মকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা। সময় সংবাদের সরেজমিনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি মার্কেটে দুর্ঘটনার পর ডিএনসিসি কাঁচাবাজার, কারওয়ান বাজারসহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি মার্কেটের আটটি ভবন ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ। এক মাসের মধ্যেই এসব ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা সংস্থাটির বলে জানান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা আছে, পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন করে তা তৈরি করা। যারা ব্যবসায়ী আছেন এখানে, যারা বৈধ ব্যবসায়ী, যাদের বরাদ্দ আছে তাদের আমরা বরাদ্দ দেব।
তবে নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে ব্যবসায়িক মানসিকতা পরিহার করে জননিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রধান্য দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রতিযোগিতামূলকভাবে হলেও একদম আদর্শ সব ধরনের সুবিধাসহ কমপ্লেক্স তৈরি করা, যেখানে আলো-বাতাসের সব ধরনের সুবিধা থাকবে এবং ক্রেতা-বিক্রতার স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৩টি মার্কেটের মধ্যে ২০টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি ভবনের অবস্থা অতি নাজুক।