বায়ু দূষণের মধ্যে কয়েক ঘন্টা থাকলে তা অ্যারিথমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অ্যারিথমিয়া এমন একটি পরিস্থিতি যখন আমাদের হৃদস্পন্দন নিয়মিত কাজ করে না। একটি বড় গবেষণায় এর প্রমাণ মিলেছে। অ্যারিথমিয়ার বেশ কয়েকটি রূপ রয়েছে- যার মধ্যে একটি হলো অ্যাট্রিয়াল ফ্লাটার। যার জেরে শরীরে উদ্বেগ বাড়ে এবং মাথার ওপর চাপ অনুভূত হয়।
এছাড়াও আরো একটি টার্ম হলো সুপারভেন্ট্রিকুলার টাকাইকার্ডিয়া, যখন মনে হয় হৃদযন্ত্রটি হঠাৎ করে খুব জোরে দৌড়াচ্ছে। উভয়ই ঘটনাই হৃৎপিণ্ডে বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপের কারণে ঘটে, যা সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
চীনের ৩২২টি শহরের ২০২৫টি হাসপাতালে- যেখানে বায়ু দূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত নিরাপদ বায়ু মানের ওপরে, সেখানে সমীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন কণা পদার্থ, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং ওজোনের সংস্পর্শ উল্লেখযোগ্যভাবে মানবদেহে অ্যারিথমিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ পাবলিক হেলথ থেকে ডাঃ রেনজি চেন বলেছেন, আমরা দেখতে পেয়েছি যে বায়ু দূষণের তীব্র এক্সপোজার লক্ষণীয়ভাবে অ্যারিথমিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ঝুঁকিগুলি এক্সপোজারের প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঘটেছিল। ২০১৫ থেকে ২০২১ এর মধ্যে, গবেষকরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লক্ষ ৯০ হাজার ১৫৫ জন রোগীর মূল্যায়ন করেছেন যারা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যায় ভুগছেন। পরবর্তী মাসে সপ্তাহের একই সময়ে তাদের হৃদস্পন্দন পরিমাপ করে প্রতিটি ক্ষেত্রে রোগীদের তিন বা চার বার পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ফলাফলগুলি থেকে জানা গেছে যে, বায়ু দূষণের সংস্পর্শে প্রায় অবিলম্বে কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া শুরু হতে পারে । ২৪ ঘন্টা পরে সেই ঝুঁকি হ্রাস পায়।
কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে গবেষকরা লিখেছেন : ‘আমরা অ্যাট্রিয়াল ফ্লাটার এবং সুপারভেন্ট্রিকুলার টাকাইকার্ডিয়ার সাথে বায়ু দূষণের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছি। এর সাথে সংযোগ রয়েছে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন এবং প্রিম্যাচিউর হার্টবিটের। যদিও সঠিক প্রক্রিয়াগুলি এখনও সম্পূর্ণরূপে বোঝা যায় নি, তবে বায়ু দূষণ এবং অ্যারিথমিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আমরা লক্ষ্য করেছি।’ গবেষক দলটি খারাপ বায়ু মানের অঞ্চলে বসবাসকারী লোকদের রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।