ফিফার পক্ষ থেকে শাস্তির ঘোষণা আসার পরে টালমাটাল বাংলাদেশের ফুটবল। এ ঘটনায় মাঠের ফুটবল ভুলে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্তারা। তবে খেলোয়াড়রা সে বিষয়ে কান না দিয়ে মাঠের খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। গত ১৪ই এপ্রিল বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারসহ ফিফার অন্তত চারটি আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে দুই বছর নিষিদ্ধ করে বিবৃতি দেয় বৈশ্বিক এই ফুটবল সংস্থা। ঘটনার পর ১৭ই এপ্রিল সোহাগকে আজীবনের জন্য বাফুফে ভবনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান খেলোয়াড়রা। আগামী জুনে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চোখ রাখতে চায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০৩ সালে সবশেষ সাফের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে সাফ যেন বাংলার ফুটবলে দূরের বাতিঘর হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে আফ্রিকার দেশ সিশেলস বাংলাদেশের দুর্বলতার চিত্র চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে।
সৌদি আরবে বিলাসবহুল কন্ডিশনিং ক্যাম্পও পারেনি জামাল ভূঁইয়াদের সিরিজ জেতাতে। সে জন্য আসন্ন সাফ নিয়ে বেশ সিরিয়াস বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। প্রশাসনিক এসব বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দিতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাজ মাঠে ফুটবল খেলা। আমরা সেটা করতে চাই। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে কীভাবে ভালো করা যায় সেটাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আগামী ২১শে জুন ভারতের আহমেদাবাদে বসবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর। আসর শুরুর আগে কাতারে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করবে বাফুফে। এদিকে নিয়মিত ছয় দেশের সঙ্গে নতুন করে আরও দুই দেশকে যুক্ত করার কথা ভাবছেন আয়োজকরা। এতে সাফ চ্যালেঞ্জিং হলেও ভালো করার আশা ফুটবলারদের। বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় তপু বর্মণ বলেন, শুনেছি কাতারে কন্ডিশনিং ক্যাম্প হবে। সাফ একটি বড় টুর্নামেন্ট। তার আগে কাতার ক্যাম্প আমাদের কাজে লাগবে। আমার সবাই এ মুহূর্তে সাফ নিয়েই ভাবছি। আশা করছি ভালো কিছু দিতে পারবো।’ বাফুফের বোর্ডরুমে কিংবা সাধারণের আলোচনায় আবু নাঈম সোহাগের শাস্তি নিয়ে যতই তোলপাড় হোক, ফুটবলের নিয়মিত কার্যক্রমগুলো আপাতত তাতে ব্যাহত হচ্ছে না। জাতীয় দলের ক্যাম্প, প্রস্তুতি-পরিকল্পনা চলছে জোরেশোরে। জাতীয় দল কমিটির সদস্য শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর আশা করে বলেন, জাতীয় দলের প্রস্তুতিতেও ফেডারেশনের বর্তমান অস্থিরতা বাধা হতে পারবে না। তিনি বলেন, সোহাগের (বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক) এই ঘটনার আগেই আমরা জাতীয় দল কমিটি মিটিং করেছি। সাফ প্রস্তুতি কীভাবে হবে; সামনে এশিয়ান গেমস, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা আছে, ওদিকে আবার বসুন্ধরা কিংসের এএফসির খেলাগুলো সেগুলো কীভাবে সমন্বয় হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাফ প্রস্তুতির জন্য কোচ দেশের বাইরে ক্যাম্প করতে চান, আমার ব্যক্তিগত মতামত দেশেই হোক ক্যাম্প। সেক্ষেত্রে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য আমরা বাইরে যাব, নাকি বাইরে থেকে দল আসবে-এসব নিয়ে সোহাগকে কাজও করতে বলা হয়েছিল। এখন নতুন সাধারণ সম্পাদক এসেছে। তাকেও এই ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।’