মো.আলাউদ্দীন, হাটহাজারীঃ হাটহাজারীতে ২০ বছর পলাতক থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো.আজম (৪২) নামের এক খুনিকে আটক করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র্যাব ৭ এর সদস্যরা। সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলের দিকে র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার খুনি আসামী আজমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১৬ এপ্রিল রবিবার রাতে উপজেলার ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। সে গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন পরিচয়ে আত্মগোপন করে ছিলো এতোদিন। র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৩ সালে ২৫ নভেম্বর রাতে হাটহাজারী পৌরসভার মোহাম্মদপুর এলাকায় মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আজমের নেতৃত্বে একটি দুস্কৃতিকারীর দল রাস্তার উপর লোকজনকে আটক করে টাকা-পয়সা ও অন্যান্য জিনিস পত্র ছিনিয়ে নিচ্ছিলো। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে আজম তার পায়ের উরুতে রাম-দা দিয়ে কোপ মেরে গুরুতর জখম করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহতাবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। পরে সেখানেই (চমেকে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় প্রতিবেশী ফজল আহম্মদ বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে উক্ত হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী মো. আজমকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৩৯৪/৩৪ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্দডে দন্ডিত করেছিলো। এদিকে সোমবার র্যাব গ্রেফতার করা ওই আসামি কে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেন। হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.রুহুল আমিন সবুজ খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যম কে জানান, ফ্রেফতার করা ওই খুনের আসামিকে সোমবার দুপুরের দিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাটহাজারীতে ২০ বছর পর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক খুনিকে গ্রেফতার করলো র্যাব

সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন