মো.আলাউদ্দীন, হাটহাজারীঃ নূরানী মাদ্রাসা বন্ধের কোনো প্রশ্নই আসে না। বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন হলো, তখন দেশে এসে প্লেন থেকে নেমে প্রথমেই তিনি যে কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন সেটা হল, বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎৃ মুসলিম রাষ্ট্র। এবং তিনি তাঁর জীবদ্দশায় কাকরাইল জামে মসজিদ, ইসলামী ফাউন্ডেশন এবং টঙ্গীর বিশ্বইজতেমার বিশাল যে মাঠ তার ব্যবস্থাও করে গিয়েছিলেন। আর মদ-জুয়া, রেস খেলা ওসব তিনি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি যে ইসলাম কে হৃদয়ে ধারণ করতেন এটাই ছিলো তার প্রমান।” বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া মহাদেশের অন্যতম দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামেয়া আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব ককথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ইসলামের চর্চার জন্য তিনি সবসময় কাজ করতেন। তারই কন্যা আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী , তিনিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, সময়মতো তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন, সকাল বেলা ভোরের নামায আদায় করে তিনি দিনের কাজ শুরু করেন। তিনি কখনো বলেন নাই নূরানী মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে। তিনি নূরানী মাদ্রাসা কিভাবে চালু থাকবে, কিভাবে আরো ধর্ম প্রচার হবে, তিনি এগুলো নিয়ে চিন্তা করেন। তিনি ওয়াদা করেছেন কোরআন হাদিসের বিরুদ্ধে কোনো কাজ তিনি করবেন না।” এদিকে মাদরাসা শিক্ষা মিলনায়তনে ছাত্রদের উপস্থিতিতে তিনি আরো বলেন, যখন জঙ্গী নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় ছিল তখন সবাই বলেছে কওমী মাদরাসাগুলো থেকে জঙ্গী সৃষ্টি হয়। তখন আমরা বলেছিলাম কওমী মাদরাসা শুধু ইসলাম ও দ্বীনি শিক্ষা দেয়। এখানে কোনদিন জঙ্গী সৃষ্টি হতে পারেনা। তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। যারা এখনো মুক্তি পাননি তারাও পর্যায়ক্রমে মুক্তি পাবেন বলে জানান তিনি। এরআগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রবেশ করার পর মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করে হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক, হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জেয়ারত করেন। তারপর হাটহাজারী মাদ্রাসার বর্তমান মহাপরিচালক মাওলানা ইয়াহিয়া সহ শীর্ষ আলেমদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফী (রহ) এর মাজার জিয়ারত করবো। সে সুযোগ আল্লাহ আমাকে করে দিয়েছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের ৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম ১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা ইয়াহিয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মুহাম্মাদ ফখরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেঞ্জ ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি(পরিটিকেল) নাসিউল ইসলাম, এসপি এস এম শফিউল্লা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম, প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আলম বাসেক, উপজেলা নিবাহী অফিসার মোঃ শাহিদুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রায়হান, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. রুহুল আমীন সবুজ, হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী পরিচালক মুফতি জসিম উদ্দিন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মাদরাসায় সকলের সাথে তিনি ইফতারে অংশ নেন। এবং রাত প্রায় আটটার দিকে তিনি মাদরাসা থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন।
নূরানী মাদ্রাসা বন্ধের কোনো প্রশ্নই আসে না – হাটহাজারীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন