যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের টমাহক ক্রুজ মিসাইল কিনবে অস্ট্রেলিয়া। এরইমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিক্রি অনুমোদন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী মোট ২২০টি টমাহক মিসাইল পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তিতে মিসাইলের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ঘোষণা করেছিল যে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কিনবে। ওই ঘোষণার তিন দিনের মধ্যেই মিসাইল ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হলো। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে জানানো হয়, মূলত ক্রমবর্ধমান চীনা হুমকি মোকাবেলায়ই নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম হবে। শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত অবস্থান ওই অঞ্চলে শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
টমাহক ওয়েপন সিস্টেম মোতায়েন করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মার্কিন বাহিনীর সাথে কাজ করতে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
জেট চালিত এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃটেন ব্যবহার করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এসব অস্ত্র ক্রয় ওই অঞ্চলের মৌলিক সামরিক ভারসাম্যকে পরিবর্তন করবে না। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দরকার। অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল নাইনকে মার্লেস বলেছেন, আমাদের কাছে দূরপাল্লার স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদেরকে অস্ট্রেলিয়াকে আরও নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট কনরয় বলেছেন যে ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিন থেকে এই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নিক্ষেপ করা যাবে। সাবমেরিন ও ক্ষেপণাস্ত্র দুটিই যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনবে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য সেরা অস্ত্র নিশ্চিত করতে চাই।