টানা তিন মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে থেমেছে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লীগ মিশন। ২০২২-২৩ মৌসুমেও অলরেডদের শাসন করে জয় তুলে নেয় লস ব্লাঙ্কোরা। পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। দুই লেগের কোনোটিতেই রিয়ালের বিপক্ষে দাপট দেখাতে পারেনি লিভারপুল। অলরেড কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপেরও একই মত, সেরা দল হিসেবেই শেষ আটের টিকিট পেয়েছে রিয়াল।
প্রথম লেগে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ায় দ্বিতীয় লেগে বড় জয় পেতে হতো লিভারপুলের। তবে প্রত্যাবর্তনের মিশনে আগের ম্যাচের তুলনায় খারাপ পারফরম্যান্স দেখায় অলরেডরা। বল দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে জয় তুলে নেয় রিয়াল। ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেন, ‘ম্যাচ হারায় আমার রাগ নেই। তবে হতাশা আছে।’
মিশ্র অনুভূতির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ক্লপ। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ভালো খেলে লড়াই করতাম কিংবা রিয়াল একটি অন্যায্য পেনাল্টি পেতো- এমন কিছু হলে আমি রাগ করতাম।
কিন্তু এমন কিছুই হয়নি। এই লড়াইয়ে সেরা দল রিয়ালই ছিল।’
এক মৌসুম আগেও চিত্রটা ভিন্ন ছিল। দুর্দান্ত লিভারপুল এফএ কাপ, কারাবাও কাপ জিতে ছুটছিল চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং প্রিমিয়ার লীগ শিরোপার পেছনে। কোয়াড্রপল জিততে না পারলেও ইউসিএল এবং প্রিমিয়ার লীগে রানার্সআপ হয় অলরেডরা। সেই লিভারপুল চরম দুর্দশায় চলতি মৌসুমে। চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়া রেডরা লীগ টেবিলে রয়েছে ৬ষ্ঠ স্থানে। মৌসুমের বাকি সময়ে সেরা চারে ঢুকতে না পারলে আগামী চ্যাম্পিয়নস লীগের টিকিট পাবে না লিভারপুল। ক্লপ বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলতে চাই। কাজটা কঠিন আমরা সবাই জানি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতি শেষে আমাদের সামনে কঠিন এক সপ্তাহ। খেলতে হবে ম্যান সিটি, চেলসি, আর্সেনালের বিপক্ষে। এই তিন ম্যাচই নির্ধারণ করে দেবে, আমরা কীভাবে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছি।’ আন্তর্জাতিক বিরতির পর আগামী ১লা এপ্রিল প্রিমিয়ার লীগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে লিভারপুল। ৪ঠা এপ্রিল চেলসির আতিথ্য নেবে অলরেডরা। আর ৯ই এপ্রিল বিধ্বংসী ফর্মে থাকা আর্সেনালের মোকাবিলা করবে লিভারপুল।