ঈসরাফিল খসরু বলেছেন, একটি রাষ্ট্র টিকে থাকে তার জনগণের ঐক্যের ওপর, জনগণের নির্বাচিত সরকারের কার্যক্রমের ওপর, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। তবে যখন কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে, তারাই দেশের মালিক, তখনই এমন সংকট তৈরি হয়। অতীতে যখনই দেশে গণতান্ত্রিক সংকট দেখা দিয়েছে, তখনই রাষ্ট্রকাঠামোকে মেরামত করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপি ১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচি এবং রাষ্ট্রকাঠামোকে মেরামত করার জন্য ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে বিএনপি ।
আজ ১৫ মার্চ (বুধবার) বিকেলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচি এবং ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে’ ২৭ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে কর্মশালা ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান ঈসরাফিল খসরু এসব কথা বলেন।
ইসরাফিল খসরু আরো বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রকে হত্যা করেনি, বরং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছে। মৃতপ্রায় আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এখন বিরোধী দলমতের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না। এই সরকার শুধু গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেনি, মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়, প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়; ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একজনের ভোট আরেকজন দিয়েছেন। গণতন্ত্রের বাহন নির্বাচনকে ধ্বংস করে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র আছে বলা যায় না।
দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির ২৭ দফা। এ ২৭ দফা আলাদা কিছু নয়। এটি বিএনপির আন্দোলনের অংশ।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, চিনি, আটা ভোজ্য তেলসহ পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ। ধনী গরিব কেউই যেন রেহাই পাচ্ছেন না দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কবল থেকে। দেশ পরিচালনার স্বার্থে, নিজের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে এই ২৭ দফা বাস্তবায়ন করবে।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান বলেন, বিএনপির ২৭ দফার পর আওয়ামী লীগের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে । কারণ প্রত্যেকটি দফা একেকটি ভিন্ন চিন্তা থেকে প্রণয়ন করা হয়েছে। এইগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক ফিলোসফি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আজ দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করেছে। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি ২৭ দফা তুলে ধরেছে। বিদেশিদের কাছে খুব বেশি গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
কর্মশালা ও আলোচনা সভায় ২৭ দফা নিয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, সহ-সভাপতি হারুন আল রশিদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান। বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আরমান শুভ এর পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জাকির হোসেন, মোখলেছুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম,শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এসকান্দর, বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জসিম উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক স্বাদ উদ্দিন চৌধুরী, আল জাবের, কাইছার হামিদ, তাজুল ইসলাম সবুজ, মিজানুর রহমান মিঠু, জলিল, খোরশেদ মালিক, সদস্য মুরাদ, রুবেল, সজল, শাহাজাদা, আরিফ হোসেন, মামুন, লিমন, জাকির, ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দ।