সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে নির্ধারণ করা হজের প্যাকেজ মূল্য কমিয়ে পুনঃপ্যাকেজ ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। রিটে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট ছাড়া যেকোনো এয়ারলাইন্সে টিকিট কেটে হজে যাওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট আশরাফ উজ জামান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। ধর্ম সচিব, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
পরে এডভোকেট আশরাফ উজ জামান বলেন, ইতিমধ্যে আদালতের অনুমতি নেয়া হয়েছে। আজ সোমবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
গত ৬ই মার্চ সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে নির্ধারণ করা হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ লাখ টাকার মধ্যে পুনঃনির্ধারণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আল কোরআন স্ট্যাডি সেন্টার সুপ্রিম কোর্টের কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট আশরাফ-উজ্-জামান। নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ই-মেইলযোগে নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), সৌদি আরবের বাদশা, ইরানের প্রধানমন্ত্রী, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, কাতারের সরকার প্রধানসহ বিশ্বের মুসলিম সব অ্যাম্বাসি বরাবরও পাঠানো হয়।
হজের প্যাকেজ মূল্য সংশোধন করে ৪ লাখ টাকার মধ্যে পুনঃনির্ধারণ করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। আইনজীবী সমিতি ভবনের প্রবেশ মুখে আল-কোরআন স্টাডি সেন্টারের ব্যানারে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা দাবি জানান, অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের বাণিজ্যিকভিত্তিক হজ প্যাকেজ প্রত্যাহার করতে হবে। তারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।
আগের বছরে যা ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশ-সৌদি-বাংলাদেশ রুটে প্লেন ভাড়া ৭৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেখানে বিমানের ভাড়া দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। দুদেশের সরকার হজযাত্রীদের সৌদি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে হজযাত্রীদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। প্যাকেজে অতিরিক্ত মোয়াল্লেম খরচ ও সৌদি ট্রাভেল খরচ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়িভাড়া সৌদি আরবে না বাড়লেও এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। তাই আমরা চাই এসব অনাকাক্সিক্ষত খরচ কমিয়ে ৪ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করার।