মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনের (৭৫) বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের জন্য চার দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ২৩ কোটি ২৫ লাখ রিঙ্গিত। শুক্রবার তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। তার সরকারের সময়ে জনা উইবাওয়া কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন প্রকল্পে এসব অর্থ হাতবদল হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৫০ লাখ রিঙ্গিত অর্থ পাচারের দুই দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। এখানে সেই অভিযোগগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। নভেম্বর ২০২০: কর্মসূচি চালু করেন প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন। বুমিপুতেরা নামের একটি কোভিড-১৯ বিষয়ক কর্মসূচি চালু করেন তিনি। এর অধীনে রয়েছেন মালয় সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আদিবাসী সংখ্যালঘু কন্ট্রাক্টররা। ডিসেম্বর ২০২২: নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, মুহিদ্দিনের অধীনে থাকা তার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড হাতবদলে আস্থা ভঙ্গ করেছেন। মুহিদ্দিন ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৭ মাসের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩: এদিন মালয়েশিয়ান এন্টি করাপশন কমিশন (এমএসিসি)-এর প্রধান কমিশনার আযম বাকি বলেন, তহবিল তছরুপ এবং অন্যান্য অনিয়ম তদন্তের জন্য মুহিদ্দিনের দল পারতি প্রিভূমি বেরসাতু মালয়েশিয়ার অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি জনা উইবাওয়া কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত ৬৯ লাখ রিঙ্গিত ঘুষ নিয়েছেন বেরসাতুর প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সাইফুল ওয়ান জান। এ জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই রকম অভিযোগ আছে ২৩ কোটি ২০ লাখ রিঙ্গিত ঘুষ নেয়ার। এমআইই ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড এনার্জির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ৫ লাখ রিঙ্গিত ঘুষ দাবি ও তা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে ব্যবসায়ী এডাম র্যাডলানের বিরুদ্ধে। ৪ কোটি ৭৮ লাখ রিঙ্গিতের একটি সড়ক বিষয়ক প্রকল্পের কাজ পেতে এই ঘুষ দেয়া হয়েছিল। জনা উইবাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ৪০ লাখ রিঙ্গিত ঘুষ গ্রহণের জন্য আরও দু’দফা অভিযোগ আনা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। নেপটুরিস নামে একটি কোম্পানিকে সরকারি ১৪ কোটি ১০ লাখ রিঙ্গিতের একটি কাজ পাইয়ে দিতে তিনি সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এক্ষেত্রে তিনি এমআইই ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে আরও ঘুষ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত ১ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার রিঙ্গিত পাইয়ে দিতে এবং তা গ্রহণ করার কারণে একটি ফার্নিচার কোম্পানির পরিচালকের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী এডামের বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বলা হয়, নেপটুরিসকে ১৪ কোটি ১০ লাখ রিঙ্গিতের চুক্তি পাইয়ে দিতে সহায়তা করার জন্য ২০ লাখ রিঙ্গিত ঘুষ দাবি করে বসেন তিনি। ৯ই মার্চ এমএসিসি আটক করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনকে। তিনি এসব কর্মসূচি ইস্যুতে নিজের বক্তব্য জানাতে দুর্নীতি বিরোধী কমিশনে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। ১০ই মার্চ মুহিদ্দিনের বিরুদ্ধে ৬ দফা অভিযোগ আনা হয় কুয়ালালামপুরের একটি আদালত। বুখারি ইকুইটি থেকে বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ১৯ কোটি ৫০ লাখ রিঙ্গিত গ্রহণ করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক ব্যবসায়ী টাইকুন সৈয়দ মোখতার আলবুখারি। ২০ লাখ রিঙ্গিতের জামিন আবেদনের পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়।