ঢাকার আশুলিয়ায় মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু তানভীরকে (৮) অপহরণের হত্যার মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। গতকাল আশুলিয়ার টংগীবাড়ী এলাকায় অভিযান তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ আনোয়ার হোসেন (২০), মো. সাকিব হোসেন (২৬) ও মোঃ তামজিদ আহমেদ রাফি (১৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
জানা গেছে, গত ৭ই মার্চ আশুলিয়ার টংগীবাড়ী এলাকায় মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু তানভীর নিখোঁজ হয়। পরদিন ভিকটিমের পিতার কাছে ফোনে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যক্তি মুক্তিপণ দাবিসহ হুমকি দেয়। শিশুটির পিতা নিরুপায় হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিসহ র্যাব-৪ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। ওই দিনই টঙ্গীবাড়ী এলাকা থেকে শিশু তানভীরের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে র্যাব। শিশুটির পরিবার ও ধৃত আসামিরা একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে তারা একে অপরের পূর্ব পরিচিত। ওই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে শিশুটির পিতা মোঃ সোলায়মানের দীর্ঘ দিন যাবৎ ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।
সোলায়মান আসামি আনোয়ারের কাছে পাওনা টাকা চাইলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সোলায়মান দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আনোয়ারকে বকাবকি করে। এতে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে সোলায়মানের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার শিশু পুত্র ভিকটিম তানভিরকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে। গত ৭ই মার্চ রাতে পূর্ব পরিকল্পনামতে আনোয়ার শিশু তানভিরকে সুকৌশলে জমি দেখার কথা বলে আশুলিয়া থানাধীন শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশু তানভিরকে গলা চেপে ধরে ও মাটিতে আছাড় দেয়। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ সেখানে ফেলে বাসায় ফিরে আসে। ৮ই মার্চ ভোরবেলা আসামিরা ভিকটিমের লাশটি গুম ও হত্যার প্রমাণ লুকানোর জন্য একটি বস্তায় লাশটি বস্তাবন্দি করে সবজির গাড়িতে করে আশুলিয়া থানাধীন টংগীবাড়ী এলাকায় রাস্তার পাশে ময়লার ড্রেনে ফেলে দেয়। এরপর টঙ্গীবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা আনোয়ারসহ ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব।