গত ৩ মার্চ বাদ জুমা বোয়ালখালীর ইমাম নগর নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদ, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি সহ সভাপতি সৈয়দুল আলমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগরীর ও স্থানীয় সরকারি বেসরকারি নানা শ্রেণির পেশায় নানুষ। জানাজার আগে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুল আলমের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা, তাঁর কর্ম জীবনসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালীর কমতি সন্তান, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, বোয়ালখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এস এম সেলিম, বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র মো. জহুর, পোপাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, কুধুরখীল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আজম শেফু প্রমুখ। জানাজায় গিয়ে ব্যারিস্টার মনোয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ছৈয়দুল আলমকে কেন গার্ড অব অওনার দেওয়া হচ্ছে না এ ব্যাপারে স্থানীয় নেতাদের প্রশ্ন করলে জানতে পারেন যে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হন নাই এখনও। ব্যারিস্টার মনোয়ার বক্তব্য দেওয়ার সময় ছৈয়দুল আলমকে গার্ড অব ওনার না দেওয়ায় এবং স্বাধীনতার ৫১ বছর পর এখনও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত না করায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমি ছোটবেলায় দেখেছি তিনি মুক্তি বাহিনীর অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতেন, আমাদের বাডীতে আমার বাবার সাথে দেখা করতে আসতেন। আমার বাবা তখন মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করতেন দিন রাত, আমার মেজ ভাই কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ঐ সময়ে আর এক শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা এখলাসের সাথে রাজাকারদের উপর বোমা ফাটাতে গিয়ে অল্পের জন্য ঐ রাজাকারদের হাত থেকে বেঁচে যান এবং একই দিন এখলাস শহীদ হন। সৈয়দুল আলম বা এঁরা কেউ মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটের পেছনে ছোটেননি।কিন্তু তাঁরা কেন ছোটবেন? তাঁদের কাছে কতৃপক্ষ কেন আসেননি ? অথচ ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান পায়। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়া এর চেয়ে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক আর কি হতে পারে? বেঁচে থাকতে দুনিয়ায়ও সম্মান পেলেন না, মরার পরেও পেলেন না রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নূন্যতম সম্মান। তাই ক্ষোভে দুঃখে উপস্থিত জনতাকে আমি আহ্বান করি, আসুন আমরাই আজ ওনাকে গার্ড অব ওনার দিই, স্যালুট জানাই”। তাঁর বক্তব্য শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে উপস্হিত সবাই হাত তুলে স্যালুট দিলে তখন অভূতপূর্ণ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ব্যারিস্টার মনোয়ার আরো বলেন, “এটা ছিলো ব্যর্থতার প্রতিবাদ আর সম্মান জানানোর স্মার্ট একটি দৃষ্টান্ত। সবাইকে সাথে নিয়ে আমি তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে চেষ্টা করেছি ।” এর পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা বোয়ালখালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: সেলিম বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুল আলমকে এখনও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত না করায় দু:খ প্রকাশ করেন। তবে তিনি সৈয়দুল আলমকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
বোয়ালখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুল আলমের জানাজা: গার্ড অফ অনার না দেওয়ায় ব্যারিস্টার মনোয়ারের তীব্র ক্ষোভ

সংবাদটি শেয়ার করুন
একটি মন্তব্য করুন
একটি মন্তব্য করুন