বাংলা লিখতে গিয়ে আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলো বানান ভুলের সমস্যা। শহর-বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামের বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ডে এ ভুল চোখে পড়ে।
অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মে বানান ভুলের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবার পথ দেখাবে ‘সঠিক’। সরকারের আইসিটি ডিভিশনের ‘গবেষণার মাধ্যমে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ এ অ্যাপটি বানানো হয়েছে।
spell.bangla.gov.bd লিংকে বর্তমানে ‘সঠিক’ অ্যাপটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক হিসেবে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশীদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে আইসিটি ডিভিশনের ‘গবেষণার মাধ্যমে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় আমরা কাজ শুরু করি। বানান ভুল ধরার অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। যে কেউ বাংলা বানান অ্যাপটির মাধ্যমে সঠিক করে নিতে পারবেন।
এ জন্যই আমরা এর নাম দিয়েছি ‘সঠিক’। এর কাজ এখনও বাকি। ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাকের মাধ্যমে এর উন্নয়নে কাজ চলছে।’
বাংলা ব্যাকরণ নিয়েও কাজ চলছে জানিয়ে এ গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় বাংলা ব্যাকরণ নিয়েও আমাদের কাজ চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সুখবর দিতে পারব।’
মোট ১৬টি ভাগে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশীদ।
তিনি বলেন, ‘ভাষার উন্নয়নে বাংলা স্পেল চেকার, বাংলা ওসিআর, সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস, বাংলা ভয়েস টু টেক্সট, বাংলা ন্যাশনাল করপাস, বাংলা ফন্ট কনভার্টার, নৃগোষ্ঠী ভাষা ডিজিটাইজেশন, বাংলা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইউনিভার্সাল কি-বোর্ড সফটওয়্যার ‘ইউবোর্ড’ , সার্চ ইঞ্জিন সমুদ্র, স্ক্রিন রিডার, বাংলা সাইন ল্যাংগুয়েজ রিকগনিশন সিস্টেম, বাংলা ডেটা ড্রাইভেন অভিধান, ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম, আইপিএ কনভার্টার, টেক্সট টু সাইন পাপেট, এই ১৬টি ভাগে ভাষার উন্নয়নে কাজ চলছে। bangla.gov.bd লিংকে গিয়ে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে এই গবেষক বলেন, ‘গ্রামারলির মতো একটা অ্যাপ্লিকেশন আমরা বানিয়ে ফেলেছি, এই স্পেল চেকারটির নাম ‘সঠিক’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মেশিনকে বাংলা শেখানোর একটা বড় অগ্রগতি বলে মনে করি। বর্তমানে আমরা সঠিক নামের স্পেল চেকার অ্যাপ্লিকেশনটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ প্রকাশ করেছি।’
অ্যাপটি ব্যবহারের টেকনিক্যাল বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েবলিংক থাকলেও আমাদের এমএস ওয়ার্ড প্লাগইন, ব্রাউজার প্লাগইন, মোবাইল কি-বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে। এসব এক্সটেনশনের মাধ্যমে স্পেল চেকারটি ব্যবহার করা যাবে।’
প্রকল্পের কাজে ৫০ জনের মতো পরামর্শক কাজ করছেন। ‘রিভ সিস্টেম’ এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান প্রধান পরামর্শক মামুন।