যখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে, তখন মস্কো সফরে গেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এমন সময় তার রাশিয়া সফর হওয়ায় গোটা বিশ্বের চোখ সেখানেই। যে ধারণা করা হয়েছিল, মস্কো থেকে অনেকটা তাই ঘোষণা করলেন ওয়াং। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীন বহু মেরুর বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যুক্তরাষ্ট্রকে টার্গেট করে তিনি আরও বলেন, নতুন ওই বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক আধিপত্য থাকবে না। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে জানানো হয়, বুধবার প্রথমে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ওয়াং। এসময় তিনি বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চেষ্টায় দুই দেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। রাশিয়া ও চীন এমন একটি বহু-মেরুর বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর যেখানে কোনও একটি দেশের আধিপত্য থাকবে না। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বুধবার নতুন আরও কিছু চুক্তি ও বোঝাপড়া হচ্ছে। তবে সেসব চুক্তির বিষয়ে ভেঙ্গে কিছু বলা হয়নি।
এই বৈঠকের পর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ওয়াং।
যদিও ওই বৈঠকের বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েই বিশেষ আলোচনা করেছেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, শীগগিরই মস্কো সফরে যেতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং। সেই সফর সম্পর্কেও আলোচনা হতে পারে। তবে এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে চীনের যে নিরপেক্ষতার দাবি ছিল তা অনেকটাই হালকা হয়ে গেলো। প্রথম থেকেই পশ্চিমাদের অভিযোগ ছিল চীন রাশিয়াকে পেছন থেকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের পর মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক বৃদ্ধি সেই অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করছে।
এর আগে মঙ্গলবার মস্কোতে চীনা মন্ত্রী রুশ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান নিকোলাই পাত্রুশেভের মধ্যে এক বৈঠক করেন। সেখানেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নষ্টের কথা বলেন। বৈঠকের ওপর প্রকাশিত চীনা সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশই বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনও একটি দেশের চোখ রাঙানির বিরোধিতা করে। দেশটিতে যে যুক্তরাষ্ট্র তা স্পষ্ট। রুশ রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রচারিত খবরে দেখানো হয়েছে মঙ্গলবার বৈঠকে ওয়াং এবং পাত্রুশেভ পরস্পরকে ‘কমরেড’ বলে সম্বোধন করেন। ওয়াং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ‘পাথরের মত শক্ত’, যা পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম। অপরদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা প্রধান বলেন, মস্কোর বৈদেশিক নীতিতে এখন চীন একটি প্রধান ‘অগ্রাধিকার’ এবং পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে এই দুই দেশকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গত সপ্তাহে মার্কিন এক মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। এমন কিছু করলে চীনকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মস্কো সফর এমন সময় হচ্ছে যখন আর দু’দিন বাদেই ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের এক বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সফর করছেন।