চার দফা জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। গতকাল গ্রামের বাড়ি দোহারের শাইনপুকুর মিয়াবাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। প্রথমে ঢাকার ধানমণ্ডি বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই রাজনীতিকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার গ্রামের বাড়ি দোহারের শাইনপুকুর মিয়াবাড়িতে নেয়া হয় মরদেহ। দুপুর ২টায় সেখানে স্বজন ও এলাকাবাসী ও রাজনীতিবিদদের দেখার সুযোগ দিয়ে বেথুয়া পাহারবাড়ী নেয়া হয় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার কফিন। সেখান থেকে বিকাল ৪টায় দোহারের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেয়া হয়। বহু মানুষের উপস্থিতিতে এখানে তার তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ পদ্মা সরকারি কলেজ মাঠে তার ৪র্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ সময় তাকে একনজর দেখতে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামন তরুণ, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেনসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।
সালমান এফ রহমান জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আজকে আমাদের জন্য খুবই দুঃখের দিন।
তিনি ৪বার সংসদ সদস্য ছিলেন, ৩বার মন্ত্রী ছিলেন। দেশ নাজমুল হুদার মতো এমন একজন জাতীয় নেতাকে হারালো। তিনি শুধু দোহারের নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি তার জীবদ্দশায় যদি কাউকে আঘাত দিয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষমা করে দেবেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ২য় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয় বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। এ সময় জানাজার আগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রাব্বানী, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীগণ, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ অনেকে। জানাজা শেষে প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নী জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে নাজমুল হুদার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তার বক্তৃতায় বলেন, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আইনাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করেছেন। আল্লাহ যেন তার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাত নসিব করেন।
জানাজা শেষে নিজ এলাকা দোহারে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মরদেহ। এর আগে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রথম নামাজে জানাজা ১১টায় ধানমণ্ডির বাইতুল আমান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার রাত ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ব্যারিস্টার সিগমা হুদা এবং দুই কন্যা অন্তরা হুদা সামিলা ও শ্রাবন্তী হুদা আমিনাকে রেখে গেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জন্ম ১৯৪৩ সালের ৬ই জানুয়ারি। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে পরপর ৩বার ঢাকা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি ছিলেন দলের সর্বকনিষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্য। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন।