৬ ই ফেব্রুয়ারি। ভোর বেলা। অন্তঃসত্ত্বা সাখা আল মুসা শরীরটাকে ছেড়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। আকস্মিক ভূমিকম্পে কেপে ওঠে চারপাশ। ২৪ বছরের সাখা কিছু বুঝে উঠতে পারলেন না কি হচ্ছে। পরিবার নিয়ে তিন তলা ভবনে বসবাস করছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পুরো ভবন ধসে পড়ে তাদের ওপর। তার নিচে আটকা পড়েন তারা। এর নিচ থেকে কোনমতে উদ্ধার করা হয়েছে তাকে। কিন্তু জীবন্ত কবর রচনা হয়েছে তার স্বামী সন্তানের।
আটকে থাকা নিয়ে তিনি বলেছেন, আমার চারপাশে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। চিৎকার করছিলাম। কিন্তু কেউ শুনতে পাচ্ছিলেন না। আমার মাথার ওপর স্লাবে আঘাত করছিলাম তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। কোথাও কোন শব্দ পেলাম না। আমার স্বামী বা সন্তান কারও কোন শব্দ পেলাম না। গা শিউরে উঠল। তারা বেচে আছে তো! ভয়ে কাটা দিচ্ছিল শরীরে।
মনে হলো তাদের জীবন্ত কবর রচনা হয়েছে। এরই মধ্যে আবার কম্পন হলো। যা বাচার আশা ছিল, এবার তাও শেষ হয়ে যায়। মনে হয় আর কোনদিন পৃথিবীর আলো দেখতে পাব না।
সাখা আল মুসার ভাগ্য ভাল। সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু স্বামী, সন্তানদের এবং শাশুড়িকে হারিয়েছেন। এর চারদিন পর একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন। নাম রেখেছেন স্বামীর নামে- ওমর। সআখা আল মুসার কণ্ঠ ভারি হয়ে ওঠে- আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। আমার আপন বলতে দিনিয়াতে আর কেউ রইল না।
তুরস্ক, সিরিয়াতে ভূমিকম্পে এমন অবস্থা অনেক নারীর, মানুষের। তারা পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন। এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কোনভাবে নিজেকে সংবরণ করতে পারছেন না।