চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের হোটেলে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হোটেলের ফ্রিজ, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে সংসদ উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পরপরই দেবিনগর ইউনিয়নের ধুলাউড়ি হাটে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দেবিনগর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান এ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটনের হয়ে কাজ করেছেন। রাত ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল ওদুদ জয়লাভের খবর পেয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-লাগদা নিয়ে তার হোটেলে ভাঙচুর শুরু করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। তাদের ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে আছেন হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, উপনির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটনের আপেল প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। এই অপরাধে দেবিনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমানের নির্দেশে তার লোকজন অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হোটেলের তালা ভেঙে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
নৌকার সমর্থকদের হুমকির কারণে তিনি, তার ছেলে ইউসুফ, ভাতিজা শহিদুল, সেন্টু, হযরত ও মোশাররফ বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে আছেন। আওয়ামী লীগের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়ে লাভ হবেনা, পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিবে না এ জন্য কোন অভিযোগ করবেন না বলে জানান তিনি।
হাবিবুর রহমানের ছেলে ইউসুফ বলেন, আমার বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট করছিলেন। এ জন্য ভোটের আগের দিন আমাদের বাড়িতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে নৌকা প্রতীকের লোকজন। স্থানীয়দের কারণে আমাদের বাড়ি রক্ষা হয়। ভোটের দিন আমাদের ভোটকেন্দ্রেও ঢুকতে দেয়নি তারা। বুধবার রাতে নৌকা প্রতীক পাশ করার পর আমাদের হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজের লোকজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইল ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, নৌকা প্রতীকের জয়লাভের পর মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোকজন তার হোটেলে হামলা ভাঙচুর করেছে। হাবিবুর স্বতন্ত্র প্রার্থীর আপেল প্রতীকের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই রাগ থেকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে তারা কেন বাড়ি থেকে পালিয়ে আছেন জানিনা, তাদের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান, দেবিনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের হোটেলে হামলা, ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে এ ঘটনায় কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।