একটা সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে ছিল নানা আলোচনা-সমালোচনা। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই টাইগারদের যোগ্যতা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। যে কারণে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামলে নিশ্চিত হার জেনেই লড়াই করতে হতো। তবে দিন বদলেছে। এখন টাইগার ক্রিকেটের গর্জন সর্বত্র। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে বিশে^র যেকোনো দেশকে হারিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে টাইগাররা। পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের চোখেও বদলে যাওয়া টাইগারদের নিয়ে গর্ব। রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএলে খেলতে আসা এই পাক তারকা বলেন, ‘আমার মনে হয় অনেক কিছুই বদলে গেছে। এখন বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারকেই পৃথিবীজুড়ে চেনে। এমনকি তারা সুযোগও পাচ্ছে দুনিয়াজুড়ে, যেখানেই লীগ হচ্ছে।
ঘরের মাঠে তাদের সফল হওয়ার রেকর্ড অসাধারণ। একটা জায়গায় তারা উন্নতি করতে পারে- সেটা হচ্ছে যখন দেশের বাইরে খেলে। কিন্তু যদি প্রতিভার দিকে তাকাই, আছে। এখন শুধু তাদের ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দিতে হবে যেন তারা খেলায় উন্নতি করতে পারে।’
আগেও বাংলাদেশ সফরে এসেছেন শোয়েব মালিক। কিন্তু কোনো দিন খুব বেশি কথা বলতে দেখা যায়নি তাকে। তবে গতকাল যেন গল্পের ঝাঁপি খুলে বসলেন। এমনিতে বাংলাদেশ তার দারুণ পছন্দ। বিপিএল এলেই যেমন ভিন্ন জায়গায় আলাদা কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ দেখেন। এখানকার খাবার-দাবারও পছন্দ তার। বাংলাদেশের যানজট ছাড়া সবই ভালো লাগে পাকিস্তানি তারকার। এ নিয়েই তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসি, এখানকার লোকজন ভালোবাসতে জানে। তারা মাঠে আসে, দলকে সমর্থন দেয়। বাংলাদেশের খাবার ভালোবাসি, মাছ পছন্দ করি। এমনকি এখানকার খেলোয়াড়রাও ভালোবাসতে জানে। তারা তাদের খেলায় উন্নতি করতে চায়। এটা একটা পুরো প্যাকেজ যখন বাংলাদেশে আসি। একটা জিনিসই খারাপ- যানজট।’ শুধু তাই নয় এ দেশের ক্রিকেট নিয়েও তিনি দারুণ আশাবাদী। শোয়েব বলেন, ‘ক্রিকেটের মান খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিশেষত ব্যাটারদের জন্য। এখানে আপনি ব্যাটিংয়ের জন্য মানানসই পিচ পাবেন না। যদি আপনি চট্টগ্রামে যান আলাদা, সিলেটে আলাদা, ঢাকায় আলাদা কন্ডিশন। আমার মনে হয় যেখানেই যাবেন আলাদা কন্ডিশন পাবেন প্লেয়ার হিসেবে। যখন আলাদা ভেন্যুতে ভিন্ন কন্ডিশন পাবেন, তখন খেলোয়াড় হিসেবে উন্নতিতে সাহায্য করবে। হয়তো এজন্যই এখানে আসতেই পছন্দ করি।’
প্রায় দুই যুগের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। পাকিস্তানের হয়ে ২৮৭ টেস্ট, ১২৪ ওয়ানডে, ৩৫ টেস্ট খেলেছেন। পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে খেলেছেন পাঁচশর কাছাকাছি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ৪৯৮ টি- টোয়েন্টিতে তার রান ১২ হাজার ২৭৪। মালিক এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশকে দেখেছেন কাছ থেকেই। এ নিয়ে জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।
বিপিএলের নবম আসরে তার দল রংপুর রাইডার্স এখন পর্যন্ত খেলেছে ৭ টি ম্যাচ। যেখানে ৪ ম্যাচ জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৪ নম্বরে অবস্থান তাদের। আজ তারা প্লে-অফ নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মাঠে নামবে ঢাকার ডমিনেটরসের বিপক্ষে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ ছাড়াও দিনের আরেক ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে সিলেট স্ট্রাইকার্স। বিপিএলের অতীত ইতিহাস বিবেচনায় আনলে সিলেটের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তেমন কোনো সুবিধা করে উঠতে পারেনি। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার অধীনে এবারের সিলেট স্ট্রাইকার্স দল যেন ইতিহাস বদলের দায়িত্ব নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই জয় পাওয়া সিলেট স্ট্রাইকার্স আছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। তাদের নেট রানরেটও বেশ ভালো (০.৮০৭)।
আগের বারের রানারআপ ফরচুন বরিশাল এবারো সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে উড়ছে। সিলেটের চেয়ে ১ ম্যাচ কম খেলা বরিশাল ১২ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার ২ নম্বরে। তাদের নেট রানরেট এখন অব্দি ০.৭৮১। তালিকার তিনে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৮ ম্যাচ খেলে পেয়েছে ৫ জয়। শুরুটা বাজে করলেও দ্রুতই নিজেদের পথে এনেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। বাকি তিন দল খুলনা টাইগার্স, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও ঢাকা ডমিনেটরসের পয়েন্ট সমান ৪ করে। খুলনা ম্যাচ খেলেছে ৭টি, চট্টগ্রাম ৯টি, ঢাকা ৮টি। এই তিন দলের নেট রানরেটই নেগেটিভ।