সীতাকুণ্ডে অটোরিকশা চালক একরাম হোসেন হত্যার ঘটনায় মো. ইসমাইল হোসেন রানা (২৪) ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব (২০) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ খানের আদালতে রানা ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মো.জোনায়েদের আদালতে সাকিবের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) নাজমুল হাসান।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে একরাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গত ২৬ জানুয়ারি আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ খানের আদালত আসামি নূর আহাম্মদ ও জাহেদ হোসেনকে ৪ দিন এবং সাকিব ও রানার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে হত্যার শিকার একরাম হোসেন (২০) তার অটোরিকশা নিয়ে সড়কে বের হন। ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কুমিরা এলাকায় তার মৃত্যু হয়। একরামের হাতে, কাঁধের ওপরে ও পেটের ডান পাশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় একরামের ভাই নুরুল হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, অটোরিকশা চালক একরাম হত্যায় গ্রেফতার ৪ জনের মধ্যে মো. ইসমাইল হোসেন রানা ও মো.মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব হত্যায় জড়িত থাকা কথা স্বীকার ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত ।