সীতাকুণ্ডে আলোচিত সিএনজি চালক একরাম হত্যা মামলার প্রায় ৫ মাস পর আসামিদেরকে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ঠা সেপ্টেম্বর বিকালে সিএনজিচালক একরাম হোসেনের কাছে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল সীতাকুণ্ড সিএনজি চালক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আহমদ। তার লাইনে সিএনজি চালাতে হলে তাকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে বলেন। কিন্তু চাঁদা না দেয়ায় সিএনজিচালক একরামকে ঐদিন রাতে ৪ সিএনজি চালক মিলে পরিকল্পনা অনুযায়ী সীতাকুণ্ড পৌরসভারস্হ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইপসা অফিসের পুকুরের পাশে বাড়বকুণ্ড এলাকায় নিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে আহতের চিৎকারে পথচারী লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের ভাই নুরুল হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় এজাহার দায়ের করিলে অজ্ঞাতনামা আসামিগণ কর্তৃক চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক একরাম হোসেন (২০) হত্যা মামলাটি থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করার নিমিত্তে চট্টগ্রাম পিবিআই এর এসআই মোঃ শাহাদাত হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হয়। তিনি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি শনাক্ত করতে পারায় পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা কর্তৃক গত মামলাটি থানা পুলিশের কাছ থেকে তদন্ত গ্রহণ করতে এসআই শাহাদাত হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে গত ২৫ জানুয়ারি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করেন। সীতাকুণ্ড পৌরসভার এলাকা থেকে আসামি জাহেদ হোসেন ( ২০), নুর আহমদ (৪০), মোঃ মুস্তাফিজের রহমান প্রকাশ শাকিব (২০) ও ইসমাইল হোসেন রানা (২৪)কে সহ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ পূর্বক ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। মামলার পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আসামিদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নুর আহমদ সীতাকুণ্ড থানাধীন দক্ষিণ বাইপাস সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক তার নেতৃত্বে সহযোগী আসামিগণ ও পেশায় সিএনজি চালক। আসামি নুর আহাম্মদের লাইনে সিএনজি চালাতে হলে প্রতিমাসে তাকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে আসছিল সিএনজি একরাম হোসেনের কাছে । এতে চাঁদা দিতে চাপ প্রয়োগ করলে সে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে আসামি নূর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগী আসামি জাহেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং ইসমাইল হোসেন রানাদের নিয়ে হত্যার ঘটনায় দিন সকাল ১১টার দিকে বাড়বকুণ্ড বাজারে গোপন বৈঠক করে । ওই বৈঠকে আসামি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিরা সিএনজি চালক একরাম হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ঐদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিগণ ভিকটিমকে অনুসরণ করতে থাকে। ভিকটিম তার সিএনজি নিয়ে পৌঁছালে আসামি নুর আহমদ সিএনজি চাপা দিয়ে ভিকটিমের সিএনজি গতিরোধ করে। একপর্যায়ে আসামিগণ ভিকটিমকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে এবং বুকে ও তলপেটে ধারালো ছুরি দ্বারা গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল সকাল ১১টার সময় আসামিদেরকে সীতাকুণ্ড পৌরসভারস্হ ইপসা সংলগ্ন ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ঘটনাস্থলে নিয়ে একরাম হত্যার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয় বলে শাহাদাত হোসেন বলেন।