রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ আর একজন রোহিঙ্গাকেও গ্রহণ করবে না। গতকাল ওসমানী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর বান্দরবান সীমান্তে সমপ্রতি কয়েক ডজন রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা খুব জটিল সময়। আমাদের পলিসি হচ্ছে আর একটা রোহিঙ্গাকেও আমরা নেব না। কিন্তু আমরা তো ওদেরকে মারতে পারি না। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারকে বলেছি, তোমরা তোমাদের লোকগুলো একটাও পাঠাবা না। কিন্তু তাদেরও ক্ষমতার বাইরে, কারণ ওখানে সংঘাত হচ্ছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেজন্য ভয়ে পালিয়ে আসছে। অপর এক প্রশ্নে মোমেন বলেন, সমাধান আমি এখনো জানি না। আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে, তারা তাদের জন্মভূমে ফিরে যাবে।
এটা আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার, তাদের প্রত্যাবাসন করতে হবে। মিয়ানমারও বলেছে, তারা লোকগুলোকে নিয়ে যাবে। কিন্তু ৬ বছর চলছে, একটা লোকও যায় নাই। তাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব। তবে, আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার কাছে কোনো সমাধান নাই। অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া ঠেকানোর জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন বলেও জানান একে আব্দুল মোমেন। বলেন, আমরা বলেছি, অবৈধভাবে অনেক লোক বিদেশে যায় এবং এরা বড় নির্যাতনের শিকার হয়। আমরা চাই না, কেউ নির্যাতনের শিকার হোক। অবৈধদের জন্য লোকাল এজেন্সি কাজ করে, ডিসিরা যদি বিভিন্ন মিটিংয়ে অবৈধভাবে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন, অবৈধভাবে টাকা-পয়সা দিয়ে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হবে না।
বিদেশে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, আমরা নতুন মার্কেট ওপেন করেছি। আমরা লিবিয়াতে বৈধভাবে লোক পাঠাচ্ছি, অনেকে যাচ্ছে। রোমানিয়া ৩০ হাজার ভিসা দিয়েছে, এগুলো যেন সহজ হয়, তার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। মোমেন বলেন, বিদেশে অবস্থানরতদের পাসপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতার আহ্বানও ডিসিদের জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট ইস্যু করে না। আমরা বিদেশে পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহ করে থাকি। লোকালি এটা পাসপোর্ট অফিস করে। কিন্তু ওখানে অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। তার ফলে প্রবাসীদের যথেষ্ট অসুবিধা হয়। ডিসিরা বিষয়টা দেখভাল করলে ভালো হয়। প্রবাসীদের বাড়িঘর যাতে দখল না হয়, সেটা নিয়ে ডিসিদের কাজ করতে বলার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় প্রবাসীদের বাড়িঘর বেদখল হওয়ার পর আমাদের বদনাম হয়। অনেক সময় প্রবাসী যখন তার বাড়ি উদ্ধার করতে আসে, তখন মিথ্যা কেইস দিয়ে জেলে দেয়া হয়। ডিসিরা একটু সজাগ থাকলে এগুলো কমবে। বিদেশিদের আকর্ষণে পর্যটন এলাকার পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়ে ডিসিদের তাগিদ দেয়ার কথা তুলে ধরে মোমেন বলেন, অত্যাধুনিক নগরী বা পর্যটন নগরীতে যখন পর্যটকরা যায়, অনেক সময় সমস্যা হয়, ওখানে সিকিউরিটির সমস্যা। ওখানে লোকজন তাদের পিছে লেগে থাকে। আর অনেক সময় ওয়াশরুমের অভাব থাকে। ডিসি সাহেবরা ইচ্ছা করলে স্থানীয়দের নিয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপও হতে পারে। স্থানীয়ভাবে কোনো বিশেষ উদ্যোগ যদি বিদেশের মাটিতে উপস্থাপন করার মতো হয়, সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেয়ার কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ডিসি সম্মেলন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনও উপস্থিত ছিলেন।