সিলেট স্ট্রাইকার্সের নেতৃত্বে নয় বল হাতে সফলও হচ্ছেন এই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা। বুড়িয়ে গেছেন বলে মনে হয় না। কেউ বলছে দেশের অন্যতম সেরা সাবেক এই অধিনায়ক আরও কয়েক বছর অনায়েসেই খেলে যেতে পারবেন। তবে এর মধ্যে তার অবসর নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। কারণও আছে- কয়েকদিন আগে জাতীয় দলের নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন মাঠ থেকে মাশরাফি অবসর নিলে খারাপ হয় না। তবে তিনি অবসরে যাবেন তা নিয়ে বরাবরের মতো ধোঁয়াশা তো থাকছেই। নানা প্রশ্ন এটাইকি তার শেষ বিপিএল! এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তরটা আসলে তার মুখ থেকেই পাওয়া যাবে। গতকাল সিলেটে সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে তাকে করা হয়েছিল সেই প্রশ্নও। মাশরাফি মনে করেন, মাঠ থেকে অবসরের সংস্কৃতি থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ওই সংস্কৃতিতে যাওয়া উচিত, ওই সেটআপ করা দরকার।
যারা আছে এখন, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ, তামিম, কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, তারা বাংলাদেশের কিংবদন্তি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। তাদের ক্ষেত্রে যেন ওই সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ পায়। তারা যেন ওই সম্মানটা নিয়ে মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেন।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেশির ভাগেরই মাঠ থেকে সম্মানের সঙ্গে অবসর নেয়ার সুযোগ হয়নি। তাই যারা লম্বা সময় দেশের জন্য খেলেছেন তাদের সম্মানজক বিদায় চান মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন, দীর্ঘসময় তারা শ্রম দিয়েছে। অনেক কিছু ত্যাগ করেই সময় দিয়েছে। মানুষ তো হিসাব করে কতো টাকা পেলো। কিন্তু তারা যে শ্রম দিয়েছে, দিনের পর দিন ত্যাগ করেছে, এটা কেউ জানে না। ওই সম্মানটা যেন তারা পায়। যারা মধ্য বয়সে আছে, তরুণ আছে, তাদের যেন বিশ্বাসটা আসে, আমাদের দেশ থেকে এতটুকু সম্মান নিয়ে যেতে পারবো।’ ২০২০-এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেবার নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেও এখন অবধি অবসর নেননি জাতীয় দল থেকে। এখনো তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণটাও জানিয়েছেন অকপটে। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো অর্থ আমি ক্রিকেট থেকে এখন পাই না। তো এটা শুধু পেশার ব্যাপার না এখন, এটা প্যাশনের ব্যাপার। আমি যখন ক্লাস সিক্স-সেভেন-এইটে পড়ি, তখন থেকেই এই স্পোর্টসটাকে…যখন ক্রিকেটের ওই ইমেজ ছিল না, তখন থেকেই ভালোবেসেছি। এই খেলার প্রতি আমার যে ভালোবাসা আছে হয়তো আরেকজন ক্রিকেটারেরও তাই আছে। হয়তো তার ক্ষেত্রে গেলেও একই কাজ করবে। তারটা তো আমি বলতে পারবো না, আমারটা বলতে পারবো। আমি ক্রিকেট খেলেছি ভালোবেসেছি, এখনো ভালোবাসি এজন্য খেলি।’ তার ক্রিকেট খেলার নেপথ্যে কখনোই গাড়ি বাড়ি কিংবা ধনী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না বলেও জানান মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের এখানে এসে বলে গেছি, যখন ক্রিকেট শুরু করি, তখন জাতীয় দলে খেলবো আশা করি। বাসা থেকে বলা হয়েছিল পড়ালেখা করো, আমি ক্রিকেট বেছে নিয়েছি। তখন এত অর্থ, গাড়ি-বাড়ি কিছুই ছিল না। ক্রিকেট দিয়েই কিন্তু জীবনের সবকিছু হয়েছে। একটা পর্যায়ে ক্রিকেট প্যাশন থেকে পেশা হয়েছে। প্যাশনটা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে একটা পর্যায়ে হয়তো অর্থ না দিলেও ক্রিকেট খেলতাম।’ শুধু তাই নয় স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন তার ক্রিকেট থেকে আগেও ছিল না এখনো নেই কোনো প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি, যেতেও চাইনি। তিন বছর আগেও এই প্রত্যাশা নিয়ে এখান থেকে যাইনি যে আমাকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে বা কোনো জায়গা থেকে কী দেবে সেই আশায় আমি বসেছিলাম না। আগেও বললাম আমার হ্যাপিনেস আমার কাছে, হ্যাপিনেস কারও কাছে বিক্রিও করতে আসিনি, কিনতেও আসিনি। আমার যেটা মন চেয়েছে, যেটা মনে করি ঘরে গিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারবো, সেটাই করেছি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে। এজন্য আমি কারও কাছে কিছু আশা করি না। সত্যি বললাম, হাজারবার বললে হাজারবারই বলবো আমি কিছুই আশা করি না।’ শুধু তাই নয় মাশরাফি বলছেন, তার নিজেকে নিয়ে তেমন কোনো আশা নেই, ‘আমার ক্ষেত্রে কোনো প্রত্যাশা নেই। এ নিয়ে কোনো রাগ, ক্ষোভ, কিছুই নেই। আমার কোনো ক্ষোভ নাই। কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আছে।’