জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন বলেছেন, আজকের এদিনে প্রয়োজন ছিল জোরালো মুভমেন্ট (আন্দোলন)। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল চাপ এবং তোষামোদ করে, সরকারের সঙ্গে নানা ধরনের বোঝাপড়ার মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়। বুধবার সকালে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন প্রশ্ন রেখে বলেন, আজ ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি নিয়ে কী আলোচনা করবেন? এ সরকারের ১৩ বছরের যে শাসনকাল, এর প্রতিটি দিন গণতন্ত্র হত্যার। প্রতিটি দিন মানুষের অধিকার হরণের। দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও সরকারের সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন, এ অবস্থায়ও আবার ক্ষমতায় আসতে চান। এ সরকারের অধীনে যদি কোনো নির্বাচন হয় তা এদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
তিনি আরও বলেন, এতো উন্নয়নের ফানুস ওড়াচ্ছেন, তো সাহস করে নির্বাচনে আসেন। জনগণের ওপর আস্থা রাখেন। সেলিম উদ্দিন বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের অতীত ইতিহাস আছে। যুগপৎ আন্দোলনেও একটা মিনিমাম বোঝাপড়া থাকে। এক দলের ওপর আক্রমণ হলে আরেক দলকে কথা বলতে হয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আজকে বাংলাদেশের রাজনীতি কোথায় গেছে? সরকারবিরোধী দলকেও সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, সরকার যা চায়, তাই হয়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার চায় জামায়াতে ইসলামের মতো সুশৃঙ্খল এবং ত্যাগী কর্মীরা যেন অন্য দলের কারও সঙ্গে মিশতে না পারে। এটা তো সরকারের দিক থেকে চাইবেই, এটা খুব স্বাভাবিক আমরা যারা মাঠে আছি, আমরা কি সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করব? বিভিন্ন সময়ে জামায়াত ও শিবিরের ঝটিকা মিছিল সম্পর্কে সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা অনেকটা লুকোচুরি করে মিছিল করি, দরকার নেই সংঘাতের। পুলিশ তো আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। সেজন্য আমরা কোনো এক জায়গায় গিয়ে আমাদের কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানে পেছন থেকে ছোঁ মেরে আমাদের ভাইদের ধরে নিয়ে যায়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দীন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।