আগামী ২০শে জুন থেকে ৩রা জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ভেন্যু ঠিক না হলেও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে ভালো করার লক্ষ্যে এখন পরিকল্পনা সাজাতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল জাতীয় দলের হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে সভা করেছে ন্যাশনাল টিমস কমিটি। সেখানে সাফের প্রস্তুতি ছাড়াও বছরজুড়ে জামালদের খেলা নিয়ে নানা আলোচনা হয়। কিছু দিন আগে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে বাফুফে। আরো এক বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে থাকছেন ৩৮ বছর বয়সী হাভিয়ের। চুক্তি নবায়নের পর স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সভা শেষে জাতীয় টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘জুন-জুলাইতে সাফ সম্ভবত রয়েছে, সাফের জন্য প্রস্তুতি যেন ভালো হয় সেটাকে কেন্দ্র করে আমাদের এই আলোচনা। সবই প্রস্তাবনা আকারে আলোচনা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সভাপতি মহোদয় ও কমিটির সদস্যদের মতামত নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবো।’ হাভিয়ের কাবরেরার চুক্তির মেয়াদ বেড়েছে এক বছর।
তার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। কাবরেরাকে ঘিরে সন্তুষ্টির দিক ছাড়াও নতুন করে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে কাজী নাবিল বলেন, ‘কাবরেরা এক বছর ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। গত বছর জুনে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র করেছিলাম। শক্তিশালী বাহরাইনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমরা ২-০ গোলে হেরেছি। তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২-১ গোল হারতে হয়েছে। আলটিমেটলি আমাদের শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে খেলতে হবে। কাবরেরা এক বছর ধরে কাজ করছেন। খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তার ধারণা তৈরি হয়েছে। এই বছর আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি।’ মার্চে ফিফা উইন্ডো ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাইছে বাফুফে। নিজেদের মাঠে খেলা আয়োজনের সম্ভাবনা বেশি উল্লেখ করে নাবিল বলেন, ‘মার্চের খেলা আমরা চেষ্টা করছি আমাদের কাছাকাছি দেশগুলোর বিপক্ষে যেন হয়। যাদের সঙ্গে খেললে সাফের দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। চেষ্টা করবো আমাদের দেশে খেলা আয়োজন করতে। সাফ যেকোনও দেশে হোক না কেন প্রস্তুতি যেন ভালো হয়।’ এদিকে ২০২২ সালে প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন কাবরেরা। তার অধীনে বাংলাদেশ দল আটটি ম্যাচ খেলেছে। এরমধ্যে একটিতে জয়, দুটিতে ড্র ও বাকি পাঁচ ম্যাচে হার দেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা শোনাতে গিয়ে কাবরেরা বলেন, ‘দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে, ২০২২ সালটি। জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে। আমরা জানি, ফল আরও ভালো হতে পারতো। কিন্তু আমাদের সবার উচিত পারফরমেন্সের দিকে মনোযোগ দেওয়া। গেম বাই গেম। উন্নতির দিকটি।’ মার্চে বাংলাদেশ দল ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে। নিজেদের মাঠে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া রয়েছে সাফ ও বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। এসব নিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, প্রথম অ্যাসাইমেন্ট মার্চে। আমাদের ঘরের মাঠে খেলতে হতে পারে। দর্শক-সমর্থকদের সামনে ভালো পারফরমেন্স করে দেখাতে হবে। এরপর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। সেখানে চ্যালেঞ্জ আছে। আছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।’