ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে দলছুট নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থনে বিশাল কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরাইলের সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় ৯টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী সাত্তারকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় মঞ্চে বসা আবদুস সাত্তার কোন রকমে কাঁপা কাঁপা গলায় দোয়া চাইলেও অন্য কোন কথা বলতে পারেননি। তারপরও খুশিতে মিছিল সহকারে অডিটরিয়াম ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
গত মঙ্গলবার বিকাল ৩টার পর থেকেই পূর্ব নির্ধারিত ‘উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া সমর্থক গোষ্ঠী’ কর্তৃক আয়োজিত কর্মীসভায় যোগ দিতে ইউনিয়ন ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সরাইল সদরে প্রবেশ করতে থাকেন। বিকাল ৪টায় সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদক মো. সাইফুল ইসলাম ঠাকুরের সঞ্চালনায় ও সভাপতি এডভোকেট মো. নাজমুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহমেদ হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র. আ. ম উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার, সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১২) আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান আনসারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল হান্নান রতন। তবে সভায় উপস্থিত থেকেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এডভোকেট শাহানুর ইসলাম ও সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস। বক্তারা বলেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্র ও রুঢ় আচরণের কারণেই বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাই আমরা কেন্দ্রের নির্দেশে নম্র ভদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ এই মুরব্বির পক্ষে মাঠে নেমেছি।
পরিচ্ছন্ন ও সাহসী মানুষ হিসেবে আমরা সাত্তার সাহেবকে সমর্থন দিয়েছি। উনাকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় ঘোষণা করুন। কিছু লোক আছে যাদের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই, কিছু ঠিকমতো বুঝেও না। তারা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এই বিভ্রান্তি অপূর্ণ করার জন্য আজকে আমরা এখানে হাজির হয়েছি। সাত্তার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। কারণ তিনি বৃদ্ধ বয়সে শিরদাড়া শক্ত করে মাথা উঁচু করে তারেক জিয়াকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন। ইনশাল্লাহ সরাইল আশুগঞ্জের মানুষ আবদুস সাত্তারের কলারছড়া মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আবারও সংসদের পাঠাবেন। তারা বলেন, সময় কম। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কোন নেতাকর্মী ঘরে বসে থাকবেন না। পাড়ায় মহল্লায় ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে যাবেন। ভোট কেন্দ্রে নারী পুরুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন। এখন থেকেই ভোট কাস্টিং করানোর পরিকল্পনা করুন। সকলের মুরব্বি আবদুস সাত্তারকে জয়ী করতেই হবে। প্রধান অতিথি বলেন, তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করতেই আজ আমরা আবদুস সাত্তারের পক্ষে মাঠে নেমেছি। আমি সাত্তার সাহেবকে এই প্রথম দেখলাম। প্রথম দেখাতেই উনাকে আমি ভালবেসে ফেলেছি। আপনাদের মুরব্বি সাত্তার সাহেবের সাথে বেয়াদবি করেছে তারেক। আপনারা কী এটা সহ্য করবেন? আপনারা ইলেকশনের দিন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সকল ভোটারকে নিয়ে ভোট কাস্ট করাবেন। আবদুস সাত্তার এখন সবার। আওয়ামলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সকল নেতা কর্মী সাত্তারের জন্য মাঠে নেমেছে। ১ তারিখে কলারছড়িকে জয়ী করে প্রতিশোধ নিবেন। এক সময় প্রধান অতিথি নিজেই সাত্তার আর কলারছড়ি বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তিনি আরো বলেন, কেউ মাঠে থাকবেন না। সব পালাচ্ছে। বিএনপি’র যারা বকবক করতো তারাও পালাচ্ছেন। কেউ থাকবে না। থাকবে শুধু কলারছড়ি। কলারছড়ি জিতে যাচ্ছে। জিতে যাবেই। তবে সবশেষে আবদুস সাত্তারকে ২-৩ জনে ধরে টেনে দাঁড় করালেও শুধু দোয়া চাইলেন। এর বেশি আর কোন কথা বলতে পারেননি তিনি।