‘হি ইজ অ্যা ভেরি গুড অফিসার। আমি যদ্দিন আছি, আই উইল ডিফেন্ড হিম।’ ভিয়েনায় গ্রহণ না করা বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলামকে নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল সিলেট সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সকালে সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের চাঁনপুর খেয়াঘাট এলাকায় সুরমা নদীর খনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত তৌহিদুল ইসলাম সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে তৌহিদুল আমাদের অ্যাম্বাসেডর ইন সিঙ্গাপুর। তাকে আমরা ভিয়েনাতে দিতে চাই। সেখানে মাল্টিন্যাশনাল কাজ আছে আমাদের ধারণা।’ তিনি বলেন, ‘সে যখন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পরীক্ষা দেয়, তখন সারা বাংলাদেশের মধ্যে সে প্রথম হয়। তারপরে সে তার ব্যাচের ফার্স্টবয় ছিল। অত্যন্ত ভালো, তুখোড় ছেলে।
এখন ওরে টেনে কীভাবে নামানো যায়, তার জন্য তার মন্ত্রণালয়ের লোকজন, তারই বন্ধু-বান্ধবরা কন্টিনিউয়াসলি এসব করছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ৪টা বড় বড়, ইউএনওতে ৪টা বড় রিকগনিশন নেয়। একটা হচ্ছে শান্তি ও সংস্কৃতি। আর দুটো বড়, একটা হচ্ছে অটিজমের ওপর এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের ক্ষমতায়ন। এই দুটোতে এই ছেলে (তৌহিদুল) প্রথম কাউন্সেলর ছিল ইউএনওতে এবং সে অসম্ভব তুখোড় ছেলে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে তার শত্রুদের কাজ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘তার (তৌহিদুল) শত্রু আছে। ওরা ওখানে গিয়ে, সে যখন মিলানে কন্সাল জেনারেল ছিল, কন্সাল জেনারেল থাকা অবস্থায় কোনো একটা মেয়েকে তার পেছনে লাগিয়ে দেয়। লাগিয়ে দিয়ে একটা কেলেংকারির চেষ্টা করে। তখন তাকে উহ্য করা হয়, সাসপেন্ড করা হয়, অনেক ইনভেস্টিগেশন করা হয়, সরকারের অনেক টাকা, আপনাদের টাকা খরচ করা হয়। পরে দেখা যায় এক্কেবারে বানোয়াট। তারপর তার প্রমোশন হয়, তারপর অ্যাম্বাসেডর হয়। এখন তার বিরুদ্ধে আবার লাগছে একদল, তারই বন্ধু-বান্ধব হবে। আর না হয় পত্রিকায় এগুলো গেল কীভাবে? হি ইজ অ্যা ভেরি গুড অফিসার। আমি যদ্দিন আছি, আই উইল ডিফেন্ড হিম।’ উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভিয়েনা মিশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য। এই পদে কূটনীতিক মো. তৌহিদুল ইসলামকে রাখতে চায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে নিয়োগ দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ভিয়েনায় পাঠানো হয়। কিন্তু অষ্ট্রিয়া সরকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে তৌহিদুল ইসলামকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। পরে গত ১৯শে সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন অষ্ট্রিয়া সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে একটি চিঠি লিখেন। তিনি তৌহিদুলকে গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু তারপরও ভিয়েনা থেকে তৌহিদুলকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। তৌহিদুল ইসলাম যখন ইতালির মিলানে কন্সাল জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে অধস্তন এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভিয়েনা গ্রহণ করছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।