অঞ্জু খাতিওয়াদা। ইয়েতি এয়ারলাইন্স বিমানের হতভাগ্য সহ-পাইলট ১৬ বছর আগে একই রকম একটি বিমান দুর্ঘটনায় তার স্বামীকে হারিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, তার স্বামী নিজেও ইয়েতি এয়ারলাইন্সের সহ-পাইলট ছিলেন। ১৬ বছর আগে ২১ শে জুন, ২০০৬- এ ইয়েতি এয়ারলাইন্সের 9N AEQ বিমানটি নেপালগঞ্জ থেকে জুমলা হয়ে সুরখেত যাবার পথে ভেঙে পড়ে। ছয়জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য মারা গিয়েছিলেন সেই দুর্ঘটনায়।
কো-পাইলট তার স্বপ্ন পূরণ থেকে কয়েক সেকেন্ড মাত্র দূরে ছিলেন
পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ থেকে কয়েক সেকেন্ড মাত্র দূরে ছিলেন কো-পাইলট অঞ্জু খাতিওয়াদা। অভিশপ্ত ফ্লাইটটির পাইলট ছিলেন সিনিয়র ক্যাপটন কামাল কেসি এবং অঞ্জু ছিলেন কো-পাইলট। দুর্ভাগ্যজনক ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানটি সহ-পাইলট অঞ্জু খাতিওয়াদার শেষ ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। ঠিক ছিলো রবিবার তার সফল অবতরণের পরে তিনি ক্যাপ্টেন হবার যোগ্যতা অর্জন করতে চলেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। কারণ রবিবার সকাল ১০.৩০ টার দিকে নয়াগাঁওয়ে ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়, ৭২ জন নিহত হন।
যার মধ্যে ছিলেন ৬৮ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য। একজন পাইলট হওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০০ ঘন্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এর আগে নেপালের প্রায় সব বিমানবন্দরেই সফলভাবে অবতরণ করেছিলেন অঞ্জু।
নেপালের বিমান দুর্ঘটনার আপডেট:
রবিবার নেপালের পোখরায় বিধ্বস্ত ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত মোট ৬৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
ইয়েতি এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, পুরোনো বিমানবন্দর এবং পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাঝে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
যাত্রীদের মধ্যে ৩ জন শিশু এবং ৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মতে, নিহত যাত্রীদের মধ্যে ৫৩ জন নেপালি নাগরিক, ৫ জন ভারতীয়, ৪ জন রাশিয়ান, ১জন আইরিশ, ১ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ছিলেন।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চার যাত্রী ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের বাসিন্দা। বিমানটি নামার কয়েক মিনিট আগে তারা ফ্লাইটে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ফেসবুকে লাইভে ছিলেন ।