এ বছর প্রায় এক মিলিয়ন টন তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ছাড়বে জাপান। ভূমিকম্প ও সুনামিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশটির ফুকুশিমা পারমাণবিক স্টেশনের এসব দূষিত পানি সমুদ্রেই নিষ্কাশন করবে দেশটির সরকার। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপানের প্রতিবেশি দেশগুলো।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্টেশনের বিপর্যয়কে তুলনা করা হয় ইউক্রেনের চেরনোবিলের সঙ্গে। এই দুটি পরমাণু বিপর্যয়ে প্রকৃতি ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিপন্ন হয়েছে মানুষের জীবন। জাপান জানিয়েছে, তারা এই পারমাণবিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য নিরাপদ করেই সাগরে ফেলবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ থেকেও এই প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়েছে। এই বর্জ্য নিষ্কাশনে প্রায় চার দশক লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার জাপানের মন্ত্রী হিরোকাজু মাতসুনো বলেন, আমরা এ বছরের বসন্ত কিংবা গ্রীষ্মেই এই পারমাণবিক দূষিত পানি সমুদ্রে ফেলবো। এর আগে আইএইএ থেকে চূড়ান্ত একটি রিপোর্ট আসবে, সরকার তার জন্য অপেক্ষা করছে। জাপানের এই পরমাণু কেন্দ্রটি ২০১১ সালের সুনামির পর থেকে বিকল হয়ে যায়।
তখন থেকে পরমাণু কেন্দ্রের ট্যাঙ্কগুলোতে পানি জমে আছে। এই পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে মুক্ত না করলে পারমাণবিক কেন্দ্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ওই সময় সৃষ্ট সুনামি আঘাতে বড় ধরনের ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে পারমাণবিক চুল্লি প্লাবিত হয়ে পড়ে, যা বড় ধরণের বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটায়। আশেপাশের এলাকা থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফুকুশিমার দূষিত পানি সাগরে ছাড়ার বিষয়টি প্রথম ২০২১ সালের এপ্রিলে সামনে আসে। ওই সময় জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, চুল্লি ঠান্ডা রাখতে ব্যবহৃত পানির ১০ লাখ টন পর্যায়ক্রমে সাগরে ফেলা হবে।
আল-জাজিরা বলছে, বর্তমানে ফুকুশিমার দূষিত পানি দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলে ট্যাংকে সঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। সাগরে ফেলার আগে পানিতে থাকা বিভিন্ন আইসোটোপ দূর করা হবে। তবে ট্রিটিয়াম নামের যে আইসোটোপ পানি থেকে আলাদা করা যায় না সেটিকে পাতলা করে বিপজ্জনক মাত্রার নিচে নামানো হবে। এরপর সাগরে ছাড়া হবে। তবে প্রতিবেশি দেশগুলো জাপানের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছে। এছাড়া জাপানি জেলেরাও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ২০২১ সালে জাপান সরকার এই পদক্ষেপ অনুমোদন দেয়। এরপর থেকে প্রশান্ত মহসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো জাপানের এমন আচরণের সমালোচনা করে আসছে।