ইউক্রেন এখন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হয়ে উঠেছে। এমন দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ। যদিও এমন সময় তিনি এই দাবি করেছেন যখন পশ্চিমা দেশগুলো আবারও নতুন করে ইউক্রেনকে অস্ত্র দেয়া নিয়ে দ্বিধায় ভুগছে। ইউক্রেনকে যতই অস্ত্র দেয়া হচ্ছে, রাশিয়ার অগ্রগতি ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে পশ্চিমাদের এমন ভাবনা পরিবর্তনে এগিয়ে এলেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বিবিসিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রেজনিকভ বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে নতুন নতুন অস্ত্র পাঠাবে। বহুদিন ধরেই ইউক্রেন ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছে পশ্চিমাদের থেকে। এরমধ্যে শীতের কারণে ডনবাসের মাটি শক্ত হওয়ায় রাশিয়া নতুন করে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রেজনিকভ বলেন, যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তবে ইউক্রেন দেশ হিসেবে এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ক্রমশ ন্যাটোর সদস্য হয়ে উঠেছে। হতে পারে এটি ডি ফ্যাক্টো এবং নিয়ম অনুযায়ী না।
কিন্তু আমাদের এখন ন্যাটোর অস্ত্র আছে এবং আমরা জানি কীভাবে তা ব্যবহার করতে হয়।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পশ্চিমাদের থেকে ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র সহায়তা পেয়ে আসছে ইউক্রেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে এখন ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন। ইউক্রেনকে রাশিয়া এখন শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। আসল যুদ্ধ চলছে ন্যাটোর সঙ্গেই। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের আরও দাবি রয়েছে পশ্চিমের কাছে। আগে থেকেই ন্যাটোর সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছিল ইউক্রেন। তবে রাশিয়ার আক্রমণের পর তাদের আবেদন আরও জোরালো হয়েছে। যদিও ন্যাটো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
এমন পরিস্থিতিতে রেজনিকভের ওই মন্তব্য ন্যাটোর মধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তাকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বিবিসিকে বলেন, আমি এমনটা মনে করি না। এটি কেনো বিতর্ক সৃষ্টি করবে। আমি যা বলেছি তা সত্য এবং বাস্তব। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করা হবে।
রাশিয়ার সেনাদের কাছে ইউক্রেন যখন সোলেদার শহর হারিয়েছে, ঠিক তখনই রাজধানী কিয়েভে বসে বিবিসিকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রেজনিকভ। তিনি যদিও দাবি করেছেন যে, সোলেদারের অবস্থা কঠিন হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সোলেদার হারানোর কথা অস্বীকার করেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইউরোপের সবথেকে বড় লবন খনি এই শহরে অবস্থিত। এছাড়া বিশাল জিপসাম খনিও রয়েছে এখানে। ভৌগলিক দিক দিয়েও সোলেদার এমন স্থানে অবস্থিত যা যুদ্ধে ইউক্রেনকে বড় বিপদে ফেলতে পারে। রেজনিকভ অস্বীকার করলেও রাশিয়া দাবি করেছে সোলেদারের শতভাগই এখন তাদের দখলে। যুদ্ধ এখন সোলেদার ছাড়িয়ে ইউক্রেনের আরও গভীরে পৌঁছে গেছে। সোলেদারের পর এখন ক্রাস্না হোরা এলাকা দখলে যুদ্ধ শুরু করেছে রুশ বাহিনী।
দনেতস্ক অঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বাখমুত থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোলেদার। এই দুই শহরের দখল নিয়েই মাসের পর মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক প্রাণহানীর দাবি করে আসছে। রাশিয়ার ওয়াগনার বাহিনীর ‘ব্যক্তিগত টার্গেটে’ পরিণত হয়েছে বাখমুত শহর। এটি দখল করলে রাশিয়ার দনেতস্ক অঞ্চল জয় অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। ওয়াগনার বাহিনীর প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ। তিনি এখন পুতিনকে দেখাতে চাইছেন যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর থেকেও তার যোদ্ধারা বেশি কার্যকর।
বাখমুতের পতন হলে দনেতস্কে আর শুধু দুটি বড় শহর বাকি থাকে। ক্রামাতর্স্ক এবং স্লোভিয়ানস্কও রাশিয়ার প্রধান টার্গেট। বাখমুতকে ঘাঁটি করেই ওই শহর দুটি দখলে এগিয়ে যেতে পারবে রাশিয়ার সেনারা। আর সোলেদারের পতন বাখমুতের পতনকে আরও সহজ করে তুলেছে। এই শহরের তিন দিক থেকেই রুশ সেনারা ঘিরে ফেলেছে। রেজনিকভের বিশ্বাস, রাশিয়া এখন নতুন দখল করা এলাকায় সেনা, অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করবে। এই সময়ে ইউক্রেনকে নতুন করে সংগবদ্ধ হতে হবে। পশ্চিমারা যেই অস্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার দিকেও তাকিয়ে আছে দেশটি। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, বসন্তকালই হচ্ছে দুই পক্ষের জন্য ভাল সময়। আমরা জানি যে, রাশিয়া সেই সময়ের অপেক্ষা করছে। আমাদেরও প্রস্তুত হতে হবে।