ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পটি যত শিগগির সম্ভব অনুমোদন করানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা নিয়মকানুনের মধ্যেই ইভিএম নিয়ে কথা বলছি। নির্বাচন কমিশনের সব প্রয়োজন আইনের আলোকে বিচার করা হবে। যত শিগগির সম্ভব ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন করা হবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, মধ্য জানুয়ারির আগে পর্যাপ্ত বাজেট পেলে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেলে সেটা আর সম্ভব হবে না। নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্যের বিষয়টি পরিকল্পনামন্ত্রীকে জানিয়ে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ইভিএম প্রকল্প পাস হবে কি না, তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তাদের (নির্বাচন কমিশন) অবস্থান আমরা জানি না। তবে পেপারে আমরা পড়েছি, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ইভিএম কেনার প্রকল্পটি পাস হতে হবে।
এম এ মান্নান বলেন, শুধু একনেক সভায় এগুলো অনুমোদন হয়, ব্যাপারটি তা নয়। তাদের (নির্বাচন কমিশন) সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তাদের সচিব আমাদের সচিবের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।
১৫ জানুয়ারি কোনো রেড লাইন (লাল রেখা) নয়, এটা ১৮ জানুয়ারিও হতে পারে, ২০ জানুয়ারিও হতে পারে। এমনকি আগামীকালও ইভিএম প্রকল্প অনুমোদন হতে পারে।
ইভিএম প্রকল্পের প্রস্তাব প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা কতগুলো ইভিএম দেবো একনেক সভার আগে পিইসি সভায় সেটা আলোচনা হয়। এখানে আমরা উপস্থিত থাকি। নির্বাচন কমিশনের লোকজনও উপস্থিত থাকেন। সবাই আলোচনা করেই এটা অনুমোদন দেবো।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যেকোনো সরকার টাকা হিসেব করে খরচ করে। সেটা সুইজারল্যান্ড হোক আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হোক। যখনই কোনো প্রস্তাব আমাদের কাছে আসে, তখনই আমরা এগুলো আইন ও নিয়মকানুনের আওতায় দেখভাল করি। নির্বাচন করতেই হবে। সাংবিধানিকভাবে বলা আছে, ইসিকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে হবে। আমরাও কিন্তু সেই পথে আছি। যা কিছু করি দু’পক্ষ আলোচনা করে করি।
তিনি বলেন, সরকার ইলেকশনের বিষয়ে কমিটেড। তাতে তো যন্ত্র ছিল না, আলোচনাও ছিল না। যন্ত্র হোক, ইভিএম হোক কিংবা ব্যালটে হোক নির্বাচন আমাদের করতেই হবে। সেটাই আমদের মূল কথা। সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জনগণ, সরকার ও সরকার প্রধান চায় ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন। এর আগের নির্বাচনও ফ্রি ফেয়ারই করেছি। যা কিছু করতে হবে, সিস্টেমের মধ্যে থেকে করতে হবে। সংবিধানের বাইরে যেয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।