মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার জাহাজ ভারতের বন্দরে রূপপুরের পণ্য খালাস করে ফেরৎ যাবে। এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই পণ্য পরবর্তীতে বাংলাদেশে আনা হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরকারী এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। রং ও নাম বদল করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা রুশ জাহাজ ‘স্পার্টা- ৩ গত ১৪ ডিসেম্বরই বাংলাদেশ অভিমুখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পণ্য নিয়ে যাত্রা করে। ২৪ শে ডিসেম্বর তা মোংলা পোর্টে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু ২০শে ডিসেম্বর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপরই সরকারের টনক নড়ে। নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার আশঙ্কায় জাহাজটিকে বাংলাদেশের জনসীমায় ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যা কার্যকরে উদ্যোগী হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু জাহাজটিকে বাংলাদেশের কোনো বন্দরে পণ্য খালাসের অনুমতি দিতে বাংলাদেশের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে রাশিয়া।
এক পর্যায়ে মস্কো সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকিও দেয়। সূত্র মতে, রাশিয়ার চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ জাহাজটিকে গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় তৃতীয় দেশে পণ্য খালাসে রাজি হয়েছে মস্কো। এ নিয়ে পররাষ্ট্র, নৌ পরিবহন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
জাহাজটির সবশেষ অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে জাহাজটির এজেন্টের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধির যোগাযোগ হয়েছে। তবে এর সবশেষ অবস্থানের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুক্রবার তা জানা যেতে পারে বলে এজেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
এদিকে সমুদ্রগামী জাহাজের অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় যুক্ত বেসরকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১২ পর্যন্ত এটি বঙ্গোপসাগরীয় এলাকায় অবস্থান করছিলো।