প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর গতকাল ছিল মেট্রোরেলের প্রথম দিন। এদিন মেট্রোরেলে স্টেশনগুলোতে ভিড় করে হাজার হাজার মানুষ। তবে প্রথম দিনেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাময়িক সমস্যায় ভুগলেও অনেকে সেটিকে নিয়েছেন স্বাভাবিকভাবে। দিন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মেট্রোরেলের সমস্যাগুলোকে ‘বাঁকা চোখে’ না দেখার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে মেট্রোরেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল সকালে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে আগারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় প্রথম মেট্রোরেল। অন্যদিকে যথা সময়ে ছাড়েনি আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ীর উদ্দেশ্যের ট্রেন। কিছুটা বিলম্বে যাত্রা করে এ ট্রেন। এ স্টেশনে মেট্রোরেলে টিকিট বিক্রয় মেশিন (ভেন্ডিং মেশিন) সাময়িকভাবে বিকল হয়ে যায়।
৮টা ৩৫ মিনিটে যাত্রীরা প্রবেশ করে টিকিট কাটা শুরু করলে কিছুক্ষণ পর মেশিনটি বিকল হয়ে যায়। নির্দেশনায় বলা হয়, টিকিট অফিসে যোগাযোগ করতে। লতিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, আমি টিকিটের জন্য টাকা প্রবেশ করালেও ফিরতি টাকা বা টিকিট পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট নিচ্ছি।
মেট্রোরেলের অতিরিক্ত স্টেশন কন্ট্রোলার সোহেল রানা বলেন, কারিগরি ত্রুটিতে টিকিট ভেন্ডিং মেশিন আপাতত বন্ধ আছে। ভেতরে কাজ চলছে। এ সময় ম্যানুয়ালি টিকিট কাটার অনুরোধ করেন তিনি। এদিকে শুরুতেই স্টেশনের স্বয়ংক্রিয় টিকিট মেশিন অচল হয়ে পড়ায় কাউন্টারে তৈরি হয় প্রচণ্ড ভিড়। স্টেশনের মূল গেটের বাইরেও বহুদূর ছাড়িয়ে যায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের লাইন। শুরুতেই এমন বিভ্রাটে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন তাদের অনেকে। ফটকে দাঁড়ানো পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা লোকজনকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়াও প্রথম দিনে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে হাতে হাতে টিকিট কাটতে অনেক সময় লেগেছে। বাইরে দীর্ঘ লাইন থাকলেও ট্রেনের বগিগুলোতে যাত্রী তুলনামূলক কম ছিল। সেগুলো প্রায় ফাঁকা যাওয়া-আসা করেছে।
আগারগাঁও স্টেশনে মেট্রোরেল প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলছেন, বড় নোট দিয়ে মেশিনে টিকিট কাটার সময় বাকি টাকা ফেরত দিতে পারছে না মেশিন, কারণ ভেতরে পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়নি। সমস্যা হচ্ছে সে কারণেই। এদিকে গতকাল সকালে মেট্রোরেলে উঠতে আগ্রহী মানুষের লাইন ছাড়িয়েছে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সীমাও। তরুণদের পাশাপাশি অনেকে নিয়ে এসেছেন শিশুদেরও। এসব লাইনে দেখা যায় বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদেরও। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ স্লুইসগেট মাদ্রাসা ও মসজিদের ইমাম আবুল বাশার অপেক্ষা করছেন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে। সকাল পৌনে ৯টা বাজে, তখনো তিনি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। দুপুর সাড়ে ১১টার পর থেকে স্টেশনের লাইনে হইহুল্লোড় শুরু হয়ে যায়। এরই মধ্যে একদল লাইন ভেঙে একদম গেটের কাছে চলে আসে। মেট্রোরেলের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধ্য হয়ে গেট বন্ধ করে দেন। এরপর আর গেট খুলতে দেখা যায়নি। কাউকে প্রবেশও করতে দেয়া হয়নি।
ধানমণ্ডি থেকে আসা জোবায়ের আহমেদ বলেন, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিড়ের কারণে আর গেট পর্যন্ত যেতে পারিনি। এদিকে প্রথম দিনের সমস্যাগুলোকে ‘বাঁকা চোখে’ না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সময় গেলে মানুষ অভ্যস্ত হবে, ধীরে ধীর সবই ঠিক হবে। মেট্রোরেলের সার্ভার অতিরিক্ত চাপ নিতে পারছে না, এমন কি সিগন্যাল ঠিক দিচ্ছে না, এটা কি মেশিনের সক্ষমতার সমস্যা? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাঁকা চোখে দেখছেন কেন? একটা জিনিস বাংলাদেশে হয়েছে নতুন, প্রথম অভিজ্ঞতা, মেশিনটা তো চালাতেও এদিক সেদিক হতে পারে। মানুষকে অভ্যস্ত করতে হবে। মানুষ টিকিট তো কিনতে দেরি করছে। এগুলো আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় বন্ধ হয় যাত্রী চলাচল। তবে যতক্ষণ মেট্রোরেলে চড়েছেন ততক্ষণ নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। প্রথম দিনে ১০টি ট্রেনে ৩ হাজার ৮৫৭ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পেরেছেন।